Bartaman Logo
৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পঞ্চায়েতে শীঘ্র ৬৫০০ নিয়োগ, উদ্যোগী রাজ্য

২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোট মিটে যাওয়ার পরই শূন্যপদ পূরণের তোড়জোড় শুরু করেছিল পূর্বতন সরকার। কিন্তু থমকে গিয়েছিল নানা কারণে।

পঞ্চায়েতে শীঘ্র ৬৫০০ নিয়োগ, উদ্যোগী রাজ্য
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোট মিটে যাওয়ার পরই শূন্যপদ পূরণের তোড়জোড় শুরু করেছিল পূর্বতন সরকার। কিন্তু থমকে গিয়েছিল নানা কারণে। রাজ্যে পালাবদলের পরই গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা সেই শূন্যপদ পূরণে উদ্যোগী হল সরকার। ফলে, শীঘ্রই ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই উদ্যোগের কথা নিজেই জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘নিয়োগের জন্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে একজন কর্মী চারজনের কাজ করছেন। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছি। উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে এই জট দ্রুত ছাড়াতে হবে।’
সূত্রের খবর, পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, গ্রাম সহায়ক, নির্মাণ সহায়ক, গ্রাম পঞ্চায়েত সচিব, অ্যাকাউন্টস ক্লার্ক, ক্যাশিয়ার কাম স্টোর কিপার সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের প্রয়োজন আছে। এই সব পদেই দ্রুত নিয়োগ হবে। পূর্বতন সরকারের আমলে জেলা স্তরের নির্বাচন কমিটি বা ডিস্ট্রিক্ট লেভেল সিলেকশন কমিটি (যাঁদের মাধ্যমে পঞ্চায়েতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হয়) পুনর্গঠনের নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। এই কমিটিতে কোনো জনপ্রতিনিধি থাকবে না বলেই সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি, শিক্ষক নিয়োগ এবং পুর নিয়োগ দুর্নীতির মতো অভিযোগ এড়াতে সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল হওয়ার কথা জানিয়েছিল আগের সরকার। সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত রিক্রুটমেন্ট ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল। তাতে আগেভাগেই চাকরির জন্য আবেদন করে রাখার ব্যবস্থা ছিল। চাকরিপ্রার্থীদের ওটিপি ভিত্তিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করাতে হত এই পোর্টালে। যাতে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদগুলিতে চাকরির সুযোগ হলে কোনো সময় নষ্ট না করেই তাঁদের চাকরির পরীক্ষার জন্য ডাকা যায়। এখন দেখার, পূর্বতন সরকারের এই পদ্ধতির উপর ভরসা রেখেই বর্তমান সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ার পথে হাঁটে, নাকি নতুন করে পোর্টাল এবং নিয়মাবলি তৈরি হয়।
প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, শিক্ষা এবং পুরদপ্তরে নিয়োগ দুর্নীতির আঁচ এসে পড়েছিল পূর্বতন সরকারের উপর। এই ইস্যুতে তাদের কার্যত কোণঠাসা করে দেয় বিজেপি। একইসঙ্গে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারে এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে শান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রেক্ষাপটে পঞ্চায়েতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই প্রথম বৈঠকে আধিকারিকদের থেকে দপ্তরের কর্মী সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চান দিলীপবাবু। তখনই তাঁকে এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদের বিষয়টি জানানো হয়। নিয়োগের পাশাপাশি অবশ্য অন্যান্য বিষয়েও উদ্যোগী হচ্ছেন নতুন মন্ত্রী। তার মধ্যে অন্যতম মা ক্যান্টিন। পাঁচ টাকায় ডিম ভাতের সুযোগ থেকে গরিব মানুষ বঞ্চিত হবে না তো? এই প্রশ্ন পালাবদলের পরই উঠছে। এদিন সকালে দিলীপবাবু জানিয়েছেন, বন্ধ হওয়া দূরঅস্ত, মা ক্যান্টিন থেকে পাঁচ টাকার বিনিময়ে এবার মাছ-ভাত দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ