Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বেড নেই’, লেখা অথবা বলা যাবে না, নির্দেশিকা মেডিকেলের সুপারের

কলকাতা মেডিকেল কলেজের সুপার ডাঃ শান্তনু সেনের নির্দেশে 'বেড নেই' বলা নিষিদ্ধ। এ নিয়ে চলছে বিতর্ক। বিস্তারিত পড়ুন।

‘বেড নেই’, লেখা অথবা বলা যাবে  না, নির্দেশিকা মেডিকেলের সুপারের
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বেড নেই’ বা ‘নন অ্যাভেলেবিলিটি অব বেডস’—আকার-ইঙ্গিতে বা মুখে বলে বা লিখিতভাবে একথা বলা যাবে না আর। এমনই নির্দেশনাম জারি করেছেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ শান্তনু সেন। বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক চিকিৎসক তথা ফ্যাকাল্টি ও অন্যান্য চিকিৎসকদের উদ্দে঩শ্যে জারি হয়েছে এই নির্দেশ। স্বভাবতই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। চিকিৎসক-কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, এমন ফতোয়া জারির এক্তিয়ার আছে তো সুপারের? কারণ, ২৫ জুন জারি করা ওই নির্দেশ স্বাস্থ্যভবনের নয়, নির্দেশনামার প্রতিলিপি রা঩জ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজের প্রধান তথা স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে (শিক্ষা) নিয়মমাফিক পাঠানোও হয়নি। বোঝাই যাচ্ছে, এটি একটি স্থানীয় অর্ডার। 

Advertisement

কলকাতা মেডিকেল কলেজে দূর-দূরান্তের জেলা থেকেও রোগীরা আসেন। এখানে ‘নো বেড ভ্যাকেন্ট’, ‘নো বেড অ্যাভেইলেবল’ ‘রিগ্রেট, নো বেড’ জাতীয় শব্দগুলি ইমার্জেন্সি টিকিটে প্রায় লিখে দেন চিকিৎসকরা। যার ফলে বিপাকে পড়েন রোগীর আত্মীয়রা। 
এই নির্দেশনামায় মেডিকেলের সুপার জানিয়েছেন, ‘বেড নেই’—একথা মুখে বলা, প্রচার করা, সরকারি স্ট্যাম্প ব্যবহার করা বা এই সংক্রান্ত মন্তব্য করা—সবকিছু থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি বেডের টানাটানি থাকে, ফাঁকা বেড বিষয়ক তথ্য সরকারি যথাবিহিত নিয়মকানুন মেনে জানানো হবে। হাসপাতালের সমস্ত শিক্ষক চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, মেডিকেল অফিসারদের কর্তৃপক্ষের এই বার্তা জানাতে বলাও হয়েছে। কিন্তু এই ‘যথাবিহিত নিয়ম’ ঠিক কী, প্রশ্ন তুলেছেন জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের অন্যতম নেতা অনিকেত মাহাত। বলেন, সুপার বলছেন, ‘জনস্বার্থে’ এই নির্দেশ জারি হয়েছে। বলেছেন, ‘নির্দিষ্ট নিয়মকানুন’-এর কথা। বেড না থাকলে কীভাবে রোগীরা ভরতি হতে পারবেন, উনি সেকথা যদি জনস্বার্থে জানাতেন, মানুষ উপকৃত হত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধুমাত্র সিনিয়র অফিসার অন ডিউটি বা সিনিয়র ওডি ছাড়া রোগী ভরতি করার অধিকার কারও নেই। রোগী ভরতি করার মতো কিনা শিক্ষক চিকিৎসকরা এই পরামর্শ বা ক্লিনিক্যাল জাজমেন্ট দিতে পারেন। কিন্তু ভরতি করবেন সিনিয়র ওডিরা। অথচ তাঁদের ছাড়া নানা লোকে নানা মন্তব্য করছিলেন, সরকারি কাগজে লিখে দিচ্ছিলেন। সে বিভ্রান্তি কাটাতেই এই সিদ্ধান্ত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ