নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জেলাজুড়ে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে অধিকাংশ সজল ধারা প্রকল্প। কোথাও পাইপ লাইনের সমস্যা, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে সাবমার্সিবল পাম্প খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। এবার সেই সমস্ত সজলধারা প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে নদীয়া জেলা পরিষদ। বিগত সাত বছরের মধ্যে জেলা পরিষদের তরফ থেকে তৈরি দেড়শোর বেশি সজলধারা প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। তারজন্য জেলাজুড়ে ৬৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এমনটাই নদীয়া জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাই জেলাজুড়ে কোথায় কোথায় সজলধারা খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে, তা জানতে সমীক্ষা করা হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে। সেইমতো ঠিকাদারকে দিয়ে তা মেরামত করে আবার চালু করা হবে। সজলধারার পাশাপাশি খারাপ হয়ে পড়ে থাকা রাস্তার লাইটও সংস্কার করা হবে।
নদীয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনুপকুমার দত্ত বলেন, জেলা পরিষদের তরফ থেকে যে সমস্ত সজলধারা প্রকল্প বিভিন্ন কারণে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে সেগুলি সংস্কার করে আবার চালু করা হবে। প্রতিটি মহকুমার জন্য জেলা পরিষদের তরফ থেকে কিছু টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই টাকাতেই সারাবছর ধরে কাজ করা হবে। সংস্কারের পর আবার খারাপ হলেও বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে তা ঠিক করা হবে।
প্রসঙ্গত, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের তরফ থেকে জেলাজুড়ে সজলধারা প্রকল্প তৈরি করা হয়। বিভিন্ন অর্থ কমিশনের টাকায় তা তৈরি হয়। প্রতিটি সজলধারা প্রকল্পের জন্য গড়ে আট থেকে ১২ লক্ষ টাকা খরচ হয়। একবার তা তৈরি হয়ে গেলে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা করে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয় না। প্রতি বছর নতুন সজলধারা প্রকল্প তৈরি হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছু পাম্প অকেজো হয়ে পড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাম্প মেশিন, ব্যাটারি বা সোলার প্যানেল খারাপ হয়ে যায়। ফলে পরিস্রুত জল পেতে সমস্যা হয় বাসিন্দাদের। নদীয়া জেলার চাপড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, রানাঘাট সমস্ত ব্লকেই এই একই ছবি দেখা যায়।
এবার সেই সমস্ত সজলধারা প্রকল্প সংস্কার করা হবে জেলা পরিষদের তরফ থেকে। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত জেলা পরিষদের তরফ থেকে মোট ১৬৯টি সজলধারা প্রকল্প করা হয়েছে। সেগুলি বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে, তা দেখা হচ্ছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার চারটি মহকুমার জন্য চারজন ঠিকাদারের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করা হবে। জেলা পরিষদের তরফ থেকেই তারজন্য টেন্ডার ডাকা হবে। প্রতিটি মহকুমার জন্য গড়ে ১৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা সারা বছর ধরেই উন্নয়নমূলক কাজ করি। আমাদের কাছে জেলার বিভিন্ন জায়গায় সজলধারা নিয়ে অভিযোগ আসছিল। সেইমতো আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আগে তৈরি হওয়া সজলধারা প্রকল্পগুলি সংস্কার ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।