


নয়াদিল্লি: এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার কারণ ঘিরে এখনও জট কাটেনি। এর মধ্যেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে ৬৫ বার বিমানের ইঞ্জিন আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়। গত ১৭ মাসে ১১ বার ককপিট থেকে ‘মেডে’ কল দিয়েছেন পাইলটরা। যদিও সেই তালিকায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত লন্ডনগামী এআই-১৭১ বা রুট বদল করা অন্তর্দেশীয় ইন্ডিগো বিমানকে ধরা হয়নি। তথ্য জানার অধিকার আইনে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। আরটিআইয়ের সুবাদে ডিজিসিএ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, প্রায় প্রতি মাসে ভারতের কোনও না কোনও উড়ান সংস্থার অন্তত একটি বিমানের ইঞ্জিনে গোলমাল ধরা পড়ে।
আরও জানা গিয়েছে, ২০২০-২৫ সালের মধ্যে টেক অফের সময় ও মাঝ আকাশে থাকাকালীন মোট ৬৫টি বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার রিপোর্ট জমা পড়েছে ডিজিসিএ’র কাছে। তবে প্রতি ক্ষেত্রেই পাইলটরা চালু থাকা অপর ইঞ্জিনের সহায়তায় বিমানটিকে কাছাকাছি কোনও বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। ইঞ্জিন বন্ধের প্রসঙ্গে ভারতীয় পাইলটদের সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন সি এস রণধাওয়া বলেন, ‘বন্ধ ফুয়েল ফিল্টার, জলের সঙ্গে জ্বালানি মিশে যাওয়া, ইঞ্জিনে জ্বালানি যেতে সমস্যা বা ভিতরে কিছু ঢুকলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’
আরটিআই সূত্রে খবর, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মে’র মধ্যে ১১টি বিমান থেকে ‘মেডে’ কল দিয়ে নিকটবর্তী কোনও বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি চাওয়া হয়। তার মধ্যে চারটি বিমানই হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে নামে। এই তালিকায় অবশ্য আমেদাবাদে দুর্ঘটনাগ্রস্ত এআই-১৭১ বা গত ১৯ জুন গুয়াহাটি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর একটি বিমান বেঙ্গালুরুতে নামার ঘটনাকে রাখা হয়নি।
অন্যদিকে, আমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠলেও কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ার লাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনস। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার তরফে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়ে আন্দাজে কোনওকিছু বলা হলে তা আদতে মূল তদন্তকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দুর্ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোকে সব ধরনের সাহায্য করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বিমান চালকদের এই সংস্থা।