শ্রীকান্ত পড়্যা, কোলাঘাট: আগামী তিন বছরে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় ছোট ও মাঝারি শিল্পে ছ’হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। সোমবার কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে তিন জেলার শিল্পদ্যোগীদের নিয়ে সিনার্জিতে এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। ছোট ও মাঝারি শিল্পে লালফিতের ফাঁস শেষ এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে এদিন কোলাঘাটে ‘সিনার্জি অ্যান্ড বিজনেস ফেসিলিটেশন কনক্লেভ’ ছিল। সেখানে দপ্তরের মন্ত্রী ছাড়াও সেচদপ্তরের মানস ভুঁইয়া, মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত, দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ পাণ্ডে প্রমুখ ছিলেন। এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল, ঝাড়গ্রামের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারাণ্ডী, জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। নন্দকুমার, মহিষাদল, পিংলার বিধায়করাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিন তিন জেলা থেকেই উদ্যোগপতিরা সিনার্জিতে অংশ নিয়েছিলেন। ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের অধীন তিনটি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। এছাড়া তিন জেলার বিদ্যুৎবণ্টন, ভূমি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, দমকল, সুইড, ইন্সপেক্টর অফ ফ্যাক্টরিজ, হ্যান্ডলুম সহ মোট ১৪টি দপ্তরের অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি দপ্তরের স্টলও ছিল। চেম্বার অব কমার্স থেকে হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফিশারমেন অ্যাসোসিয়েশন, কাজু প্রসেসিং অ্যাসোসিয়েশন, মাথার চুল প্রসেসিং থেকে মৎস্যজীবী, তন্তুবায়, মাদুর, পটচিত্র সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এদিনের সিনার্জিতে শামিল হন। জানা গিয়েছে, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় এখনও পর্যন্ত ২লক্ষ ৫০হাজারের বেশি এমএসএমই উদ্যম পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তারমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে ১লক্ষ ৩৫হাজার ৩৫৪টি আছে। তাতে ৪১৫৭কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রায় ছ’লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই জেলায় ৪২টি ভারী শিল্প আছে। কাজু প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে মোট ১২৩২টি ইউনিট আছে। তাতে প্রায় ২৪হাজার মানুষ কর্মরত। আগামী দিনে পট, সিংয়ের কাজ, মাদুর, ঝিনুকের পাশাপাশি মাথার চুল, মৎস্য, হোটেল প্রভৃতি সেক্টরেও বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী চন্দ্রনাথবাবু বলেন, আগামী তিন বছরে এই তিন জেলায় ছোট ও মাঝারি শিল্পে প্রায় ছ’হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে ১লক্ষ ৩৫হাজার, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১লক্ষ ১২হাজার এবং ঝাড়গ্রামে আরও প্রায় ১৫হাজার এমএসএমই উদ্যম পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এই তিন জেলাকে ৯৬৯২জনের ২২৭কোটি ২১লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কঋণ অনুমোদন হয়েছে। এই তিন জেলায় তন্তুবায় সহ বিভিন্ন হস্তশিল্পের প্রসারের জন্য ৬৭হাজার ৭১৬জনকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কাঁথিতে ২কোটি ৪৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজু প্রসেসিংয়ের জন্য কমন ফেসিলিটি সেন্টার গড়া হচ্ছে।
এদিন বিভিন্ন উদ্যোগপতিকে ব্যাঙ্কঋণ অনুমোদন সহ বিভিন্ন বিভাগের কাজের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া অফিসারদের উদ্দেশে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তিন জেলায় আড়াই লক্ষ এমএসএমই ইউনিট তৈরি হয়েছে। এটা বিরাট প্রাপ্তি। তিনি বলেন, গোটা দেশের ৫২শতাংশ মাদুর তৈরি হয় সবং, পিংলা, ময়না ও রামনগর এলাকা থেকে। অথচ, সেই মাদুরকে এখনও ন্যাচারাল ফাইবার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়নি। যেকারণে ব্যাঙ্কঋণ পেতে নানা ঝক্কি পোহাতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী মাদুরকে ১০০দিনের কাজে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। জেলাশাসকরা যেন মাদুরশিল্পীদের তালিকা সংগ্রহ করে এনআরইজিএ কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করিয়ে নেন।-নিজস্ব চিত্র