নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন আরামবাগ মহকুমার ছয় পড়ুয়া। আরামবাগ থেকে তিনজন এবং গোঘাটের তিন পড়ুয়া প্রথম দশে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করেছেন। এবার মাধ্যমিকেও আরামবাগ মহকুমা থেকে চার পড়ুয়া মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। তার জেরে খুশির হাওয়া আরামবাগ মহকুমার শিক্ষা মহলে।
আরামবাগ হাইস্কুলের রাজর্ষি অধিকারী ৪৯৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন। তিনি চিকিৎসক হতে চান। একই স্কুল থেকে প্রান্তিক গঙ্গোপাধ্যায় ৪৯৩ নম্বর পেয়ে পঞ্চম এবং সর্বজিৎ সাহা ৪৮৮ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছেন। সর্বজিৎ ইঞ্জিনিয়ার হতে চান।
এছাড়া গোঘাট হাইস্কুলের ছাত্র অঙ্কন নন্দী ৪৯১ নম্বর পেয়ে সপ্তম হয়েছেন। তিনি গোঘাট থানা গোড়ার বাসিন্দা। বাবা তরুণ কুমার নন্দী অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। মা মধুমিতাদেবী গৃহবধূ। তাঁর দিদি বিএড পড়ছেন। অঙ্কন বলেন, মেধা তালিকায় থাকব, এমন আশা ছিল। ছবি আঁকতে ভালো লাগে। তারসঙ্গে ক্রিকেট খেলতেও ভালোবাসি। ছ’টি বিষয়ে টিউশনি ছিল। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হতে চাই।
গোঘাটের কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন বহুমুখী বিদ্যালয় থেকে রাজদীপ শাসমল ৪৯০ নম্বর পেয়ে অষ্টম হয়েছেন। তিনি ওই স্কুল থেকেই মাধ্যমিকে অষ্টম হয়েছিলেন। রাজদীপ কামারপুকুরের বাসিন্দা। তাঁর বাবা জয়ন্ত শাসমল ও মা বীথিকাদেবী দু’জনেই হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা। রাজদীপের দাদা বিশ্ব বিদ্যালয়ের পড়ুয়া। রাজদীপেরও ছ’টি বিষয়েই টিউশনি ছিল। তিনি পড়ার ফাঁকে ফুটবল খেলতে ও সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন। তবে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য তারজন্য সময় দিতে পারেননি। রাজদীপ বলেন, কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। সাফল্যের পিছনে বাবা, মা, স্কুল ও টিউশনির শিক্ষকদের অবদান রয়েছে।
গোঘাটের আনুর হাইস্কুলের ছাত্র সপ্তর্ষি পাঁজা ৪৮৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধা তালিকায় নবম হয়েছেন। গোঘাটের বেলেপাড়ার বাসিন্দা সপ্তর্ষি। তিনি কলা বিভাগে পড়ে এমন নজরকাড়া ফল করায় খুশির হাওয়া এলাকায়। সপ্তর্ষির বাবা মুরারীমোহন পাঁজা প্রান্তিক চাষি। মা নিভাদেবী গৃহবধূ। সপ্তর্ষি শিক্ষক হতে চান। তারসঙ্গে সরকারি চাকরির পরীক্ষাতেও বসতে চান। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত খেলাধুলো করেন। ক্রিকেট খেলাই তাঁর বেশি প্ৰিয়। সপ্তর্ষি বলেন, খুবই ভালো লাগছে। এই সাফল্যে বাবা, মা ও শিক্ষকদের অবদান রয়েছে।
বুধবার উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতীদের বাড়িতে পুলিস প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি সংবর্ধনা জানাতে যান আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ, পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারী সহ অনেকেই। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণা ভট্টাচার্যও কৃতীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।