Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলায় বিধানসভার ভোট নিয়ে সার্ভে, ঝাড়গ্রামে আটক গুরগাঁওয়ের সংস্থার ৬ জন কর্মী

বাংলায় বিধানসভার ভোট নিয়ে সার্ভে, ঝাড়গ্রামে আটক গুরগাঁওয়ের সংস্থার ৬ জন কর্মী
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বছর ঘুরলেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তৃণমূল ও গেরুয়া শিবিরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এমনই পরিস্থিতিতে ‘সেন্ট্রাল এজেন্সি’র কর্মী পরিচয় দিয়ে ভোট-সংক্রান্ত সমীক্ষায় শোরগোল পড়েছে বিনপুরে। মঙ্গলবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম বিধানসভার বিনপুর-১ ব্লকের ভেটলি গ্রামে হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের একটি সংস্থার নাম করে ছয় যুবক সমীক্ষা করতে আসে। সন্দেহ হওয়ায় গ্রামবাসীরা তাঁদের আটকে পুলিসে খবর দেন। বিনপুর থানার পুলিস এসে যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা এঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্তের দাবি তুলছেন।

Advertisement

বনমন্ত্রী বলেন, গুরগাঁওয়ের একটি সংস্থা ঝাড়গ্রাম বিধানসভা এলাকায় ছাব্বিশের ভোট নিয়ে সার্ভে করছে। নিয়ম না মেনে সার্ভের কাজ হচ্ছিল। বিষয়টি যথেষ্ট সন্দেহজনক। রাজ্য নেতৃত্বকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিসও তদন্ত করে দেখুক। বেলপাহাড়ীর এসডিপিও শ্রেয়া সরকার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিস গিয়েছিল। ছয় যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার ছয় যুবক গুরগাঁওয়ের ‘ডিপলেন্স রিসার্চ’ সংস্থার নাম বলে ভোট-সমীক্ষা করছিল। গত পাঁচদিন ধরে ঝাড়গ্রাম বিধানসভার বিভিন্ন পঞ্চায়েতে সমীক্ষা চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই যুবকরা কখনও সেন্ট্রাল এজেন্সি, আবার কখনও মিডিয়ার লোক বলে পরিচয় দিচ্ছিল। অভিজিৎ মণ্ডল, হেমন্ত হেমব্রম, পতিতপাবন শেঠ, দেবদত্ত চার, মলয় মণ্ডল ও বাপাই মণ্ডল, এই ছ’জন শহরের সত্যবানপল্লিতে কিছুদিন ধরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। এদিন তাঁরা ভেটলি গ্ৰামে সমীক্ষা করতে গেলে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। এক গ্রামবাসী তাঁদেরই একজনকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের কর্মী হিসেবে চিনতে পারেন। যুবকরা সংস্থার কো-অর্ডিনেটরের পুরো নাম বলতে না পারলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
গ্ৰামবাসী ললিত করণ বলেন, সেন্ট্রাল এজেন্সি থেকে সার্ভে করতে এসেছে বলে ওরা জানিয়েছিল। আমাদের নাম ও ফোন নম্বর লিখে নেয়। প্রশ্ন করছিল, কাজের ক্ষেত্রে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো। ঝাড়গ্রামে বিধানসভা ভোটে কাকে চান, এলাকার বিদ্যুৎ ও অন্য সমস্যা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। সমীক্ষার ধরন দেখে সন্দেহ হয়।
অপর বাসিন্দা অসিত পাত্র বলেন, আমাকে বলেছিল, ওরা মিডিয়া এজেন্সির হয়ে সমীক্ষা করছে। রাজনীতির বিষয়ে আমার মনোভাব জানার চেষ্টা করছিল, সেটা বুঝতে পারছিলাম। ওই যুবকদের মধ্যে মলয় মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের সংস্থায় জেলার দায়িত্বে যে কোঅর্ডিনেটর রয়েছেন, তাঁর নির্দেশে পাঁচদিন ধরে সমীক্ষা করছি। নির্দেশ অনুযায়ী, সেন্ট্রাল এজেন্সির হয়ে সার্ভে করতে এসেছি বলে আমরা জানাচ্ছি।’
স্থানীয় তৃণমূল নেতা হিরণ হাঁসদা বলেন, ওরা এই বিধানসভার আঁধারিয়ার সিংপুর, দহিজুড়ির ফুলবেড়িয়া, নেপুররার পাপটপুর সহ বেশ কিছু এলাকায় সমীক্ষা করেছে বলে জানতে পেরেছি। সেসব জায়গায় তৃণমূলের অঞ্চল নেতৃত্বের বাড়ি। ওদের মধ্যে একজন সঙ্ঘের কর্মী। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। তবে দেবদত্ত বলেন, চারবছর আগে সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এখন আর নেই। রোজগারের জন্যই সমীক্ষা করছি। এদিকে, ওই যুবকদের আই কার্ডে বা নিয়োগপত্রে কারও স্বাক্ষর নেই। তারা সত্যিই গুরগাঁওয়ের সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কি না, পুলিস তা খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ