নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রামের সমবায়ে অচলাবস্থা কাটাতে বিজেপি নেতা মেঘনাদ পালের ডাকা বৈঠক বয়কট করলেন ছয় নেতা। গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মহেশপুর সমবায় সমিতির পরিচালন কমিটি বিজেপির দখলে। দলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে সমবায়ে লেনদেন বন্ধ। সেখানে তালা ঝুলছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে চাষি ও ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ী টাকার জন্য সমবায়ে গিয়ে নিরাশ হচ্ছেন। ক্ষোভ-বিক্ষোভও চলছে। এই অবস্থায় চাপে পড়ে সমবায়কে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে শনিবার সকাল ১০টায় নন্দীগ্রামে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল। সেখানে ওই সমবায়ের সম্পাদক, সভাপতি সহ মোট ১২জন ডিরেক্টরকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। আশ্চর্য্যের বিষয়, বৈঠকে সম্পাদক ও সভাপতি বিরোধী শিবিরের দলের ছ’জন ডিরেক্টর যাননি। তাঁদের মধ্যে ওই সমবায়ের প্যানেল চেয়ারম্যান হিমাংশু বেরা, সহ সভাপতি বুদ্ধদেব মুনিয়ান, ডিরেক্টর রণজিৎ মণ্ডল, মৃণালকুমার দাস প্রমুখ আছেন।
বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলে মহেশপুর সমবায় সমিতির স্বাভাবিক কাজকর্ম একেবারে বন্ধ। ফান্ড সরবরাহ না থাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য থেকে সাধারণ চাষি, ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ী কেউ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারছেন না। ২৯অক্টোবর অনেক লোকজন টাকা তোলার জন্য এলেও ফান্ড না থাকায় ঝামেলা বাধে। এরকম অবস্থায় দুপুর ১২টায় সমবায়ে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরে যান ম্যানেজার রামহরি পাত্র। তারপর থেকে সমবায়ে তালা ঝুলছিল। শুক্রবার সমবায়ের সভাপতি বিজয় মালি ও সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ মাইতি ম্যানেজারকে চাপ দিয়ে সমবায়ে বসতে জোরাজুরি করেন। অফিস খোলার কথা জানাজানি হতেই সদস্যরা টাকা তুলতে হাজির হন। কিন্তু, পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা তালা ঝুলিয়ে দেন। ভিতরে ম্যানেজার ও অন্য সমবায়ের এক কর্মী আটকে পড়েন। বিকেলে তেখালি ফাঁড়ির পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে। সেইসঙ্গে সমবায়ে পর্যাপ্ত ফান্ড না আসা পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
সমবায়ে একজন ম্যানেজার এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিয়োগ হবে। বিজেপির দুই শিবির চাইছে, তাদের গ্রুপ থেকে নিয়োগ হোক। এদিকে, সমবায়ে মোট চার অপারেটর আছেন। তাঁদের মধ্যে দুই গোষ্ঠীর দু’জন করে আছেন। অন্তত তিনজন অপারেটরের সই ছাড়া তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে সমবায়ের টাকা তোলা যাচ্ছে না। নিজেদের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্কের জেরে অপারেটররা একত্রিত হচ্ছেন না। দুই গোষ্ঠীর কেউ কারও মুখোমুখি হচ্ছেন না। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মহেশপুর সমবায় সমিতির পরিচালন কমিটিতে বোর্ড গঠন করে বিজেপি। তারপর থেকে চূড়ান্তভাবে ডামাডোল শুরু হয়। গত ৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর বোর্ড মিটিং চলাকালীন বিজেপির ডিরেক্টররা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। দু’পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অপারেটর বদল নিয়ে গত ১৯ অক্টোবর সমিতির সম্পাদক মিটিং ডাকলেও কোরামের অভাবে তা ভণ্ডুল হয়। এদিনের মিটিং বয়কট করা ডিরেক্টরদের আশঙ্কা, ওই বৈঠকে সমবায়ের সিল, প্যাড নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে সই করানো হতো। তাই বয়কটের সিদ্ধান্ত। মেঘনাদবাবু বলেন, এদিন নন্দীগ্রামে দলের কার্যালয়ে সমিতির ১২জনকে মিটিংয়ে ডাকা হয়েছিল। কয়েকজন আসেননি। নিয়ম মেনে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হবে। সমবায়ের কাজকর্ম স্বাভাবিক করার বিষয়ে এদিন মিটিং হয়েছে।