নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও আসানসোল: দুই বর্ধমানে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। যাঁরা নিয়ম মেনে লিন্টেল পর্যন্ত বাড়ি করে ফেলেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা। পূর্ব বর্ধমানের ৫৭হাজার ৬৪টি পরিবার এবং পশ্চিম বর্ধমানের ৭২২০টি পবিরার এই টাকা পাচ্ছে। টাকা পাওয়ার পরেও উপভোক্তরা কাজ শুরু করেছেন কি না, তা জানতে সরকারি কর্মীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। পূর্ব বর্ধমানে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরেও যাঁরা কাজ শুরু করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, প্রথম দফার টাকা পাওয়ার পর যাঁরা কাজ শেষ করেছেন, তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে। আশা করি, বাকি পরিবারগুলিও দ্রুত কাজ শেষ করবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে যথাক্রমে ২ হাজার ৪০০ এবং ১ হাজার ২৭২টি পরিবার টাকা পেয়েছে। ভাতারে ৫ হাজার ২৬০, বর্ধমান-১ ব্লকে ৩ হাজার ৮৮৮টি পরিবারের অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। পূর্বস্থলী-১ ব্লকে ২ হাজার ৭৬৮জনকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। যে সব পঞ্চায়েত এই প্রকল্পের কাজে পিছিয়ে রয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপভোক্তাদের দাবি, বাড়ি তৈরির জন্য মোট ১ লক্ষ ২০হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। ইট, বালি সহ সমস্ত ইমারতি সামগ্রীর দাম বেড়ে গিয়েছে। তাই এই টাকায় বাড়ি করা সহজ কাজ নয়। যদিও আধিকারিকরা বলছেন, উপভোক্তাদেরও কিছু টাকা বাড়ি তৈরির জন্য দিতে হবে, সেটা হলেই এই কাজ সম্ভব। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর অধিকাংশ উপভোক্তাই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। কয়েকজন টাকা পাওয়ার পরেও কাজ শুরু করেনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারি-১, রায়না-১, কাটোয়া-২, কেতুগ্রাম-১ ব্লক এই কাজে এগিয়ে রয়েছে। পূর্বস্থলী-১ ব্লকে ৩৯৬জন উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। রায়না-২, মেমারি-২, গলসি-১ ব্লক এই কাজে পিছিয়ে রয়েছে। জামালপুর ব্লকে ৪ হাজার ৬৫৪টি পরিবার বাড়ি তৈরির দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার বেশিরভাগ উপভোক্তা সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাড়ির কাজ করেছেন। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ৭ হাজার ৯৫৪ জন উপভোক্তা চিহ্নিত হন। তার মধ্যে দু’জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সমস্যা থাকায় টাকা পাঠানো যায়নি। বাকিদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। তবে অনেকেই প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরেও বাড়ির কাজ শুরু করেননি। তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা বাড়ির কাজ লিন্টেল পর্যন্ত করে ফেলেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পর্যায়ে জেলার ৭ হাজার ২২০টি বাড়ি রয়েছে। বাকিরাও বাড়ির কাজ লিন্টেল পর্যন্ত করলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়ে যাবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রশান্ত রাজ শুল্কা বলেন, সবার জন্যই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা চলে এসেছে। নিয়ম মেনে তা উপভোক্তদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।