Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হদিশ নেই রাজ্যের ৫৫ লক্ষ ভোটারের! এসআইআর ফর্ম দিতে তিনবার বাড়ি গিয়েও ফিরে এসেছেন বিএলও

বাড়ি বাড়ি ঘুরেও রাজ্যে অন্তত ৫৫ লক্ষ ভোটারের হদিশ মিলছে না! জেলায় জেলায় এই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন বুথ লেভেল অফিসাররা। শহরাঞ্চলে সমস্যা আরও বেশি। এই মর্মে কমিশনের কাছে রিপোর্ট দিয়েছেন একাধিক জেলা নির্বাচনী আধিকারিক।

হদিশ নেই রাজ্যের ৫৫ লক্ষ ভোটারের! এসআইআর ফর্ম দিতে তিনবার বাড়ি গিয়েও ফিরে এসেছেন বিএলও
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ি বাড়ি ঘুরেও রাজ্যে অন্তত ৫৫ লক্ষ ভোটারের হদিশ মিলছে না! জেলায় জেলায় এই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন বুথ লেভেল অফিসাররা। শহরাঞ্চলে সমস্যা আরও বেশি। এই মর্মে কমিশনের কাছে রিপোর্ট দিয়েছেন একাধিক জেলা নির্বাচনী আধিকারিক। 

Advertisement

কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের তালিকা অনুযায়ী রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৮৮। শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের ৭ কোটি ৫৫ লক্ষ (৯৮.৫০ শতাংশ) ভোটারের ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শেষ হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ৫৫ লক্ষ ভোটারের হদিশ না মিললে তাঁদের কীভাবে ফর্ম বিতরণ করা হয়ে গেল? আসলে প্রশিক্ষণের সময় বিএলওদের জানানো হয়েছিল, কোনও ভোটারকে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় না পাওয়া গেলে তাঁর বাড়ি বা ঠিকানায় ফর্ম রেখে আসতে হবে। পরবর্তী সময়ে এই নিয়মে বদল আনে কমিশন। তারা জানিয়ে দেয়, তিনবার ঘুরে আসার পরও ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় থাকা ঠিকানায় যে ভোটারের খোঁজ মিলবে না, তাঁর বাড়িতে নোটিশ সেঁটে দিয়ে আসতে হবে। সেটির ছবি তুলে নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়েছে বলে অ্যাপে তথ্য তুলে দিতে হবে বিএলওদের। 
জানা গিয়েছে, শহরাঞ্চলে এমন সমস্যা বেশি দেখা গিয়েছে। কলকাতা ছাড়াও খড়্গপুর, আসানসোলের মতো শহরে বহু এমন ঘটনা ঘটেছে। কমিশনের এক কর্তা জানান, শহরাঞ্চলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত ভোটারদের ফর্ম বিলি করা যায়নি। তাছাড়া, শহরাঞ্চলে অনেক ক্ষেত্রে বস্তি এলাকার চরিত্র বদলে যাওয়ায় ফর্ম বিলির ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে কিছু ভোটারের ফর্ম আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তি মারফত দেওয়া গেলেও তাঁদের ‘নিখোঁজ ভোটার’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে আবার স্থানান্তরিত ভোটারদের একটা বড় অংশ মহিলা। তাঁদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও বাপের বাড়ির ঠিকানায় ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। সেক্ষেত্রে আত্মীয়দের কাছেই দিয়ে আসা হচ্ছে ইনিউমারেশন ফর্ম এবং তাঁকে স্থানান্তরিত ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় ভোটার কার্ড থাকলেও বসবাসের জন্য পরিবারটি অন্যত্র চলে গিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ভোটারদের ফর্ম বিলির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন বিএলওরা। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় তিনবার ঘুরে এসে নোটিশ সেঁটে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করে ফর্ম বিলি হয়েছে বলেই অ্যাপে দেখাচ্ছেন বিএলওরা। ইনিউমারেশন পর্বে এই ধরনের ভোটাররা বিএলওদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে তাঁদের ‘অনুপস্থিত’ বলে দেখানো হবে। সেক্ষেত্রে খসড়া তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকছে।  
এদিকে, শনিবার এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে রাজ্যের সব জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। সেখানে দিল্লির উচ্চপদস্থ কর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচনী দপ্তরের আধিকারিকরা। অবিলম্বে সমস্ত ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাগুলিকে। আগামী সপ্তাহেই ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ শুরু করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব সমস্যার কথা জানিয়েছেন বিএলওরা, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। তবে শনিবারও ডেটা এন্ট্রির কাজ নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিএলওরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ