নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার জেলায় শ্রমদপ্তরের মাধ্যমে গত ১৩ বছরে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ শ্রমিকের নাম প্রভিডেন্ট ফান্ডে নথিভুক্ত হয়েছে। দপ্তর সূত্রে খবর, নথিভুক্ত শ্রমিকদের পিএফ অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য খাতে জমা হয়েছে সাড়ে ৭৫ কোটির বেশি টাকা। মাসিক ৫৫ টাকা করে বছরে ৬৬০ টাকা হিসেবে ৬০ বছর পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ টাকা এই খাতে জমা হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় এই টাকা দেওয়া হচ্ছে।
রিকশ, ভ্যান চালক, মুটে, নির্মাণ শ্রমিক, পরিবহণ কর্মী সহ অসংগঠিত ক্ষেত্রের সমস্ত শ্রমিকই এর আওতায় এসেছেন। পাশাপাশি ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিকের নামও নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁদের ঠিকানা, ফোন নম্বর, বর্তমানে কোথায় কাজ করছেন সেই সমস্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ভিনরাজ্যে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ নিয়ে আসা সহ বিভিন্ন কারণে এখনও পর্যন্ত এই খাতে সোয়া চার লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরা হেনস্তার মুখে পড়ছেন। কোচবিহারের বেশকিছু পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে জেলায় অসংগঠিত ক্ষেত্রের ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রদানের কাজ চলছে।
কোচবিহারের জয়েন্ট লেবার কমিশনার সুমন্ত রায় বলেন, প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ শ্রমিককে বিএমএসএসওয়াই-এর আওতায় আনতে পেরেছি। তাঁদের পিএফ জমা হচ্ছে। যার পরিমাণ সাড়ে ৭৫ কোটি টাকারও বেশি। তাঁরা যাতে সঠিকভাবে এই সুবিধা পান, সেদিকে নজর রয়েছে। এছাড়াও নির্মাণ, পরিবহণ শ্রমিকদের পেনশন, পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম নথিভুক্তকরণও চলছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলায় ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন শ্রমিক বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনার আওতায় রয়েছেন। এঁদেরই ১৩ বছরে ৭৫ কোটি ৫২ লক্ষ ১৫ হাজার ২১৬ টাকা পিএফ খাতে জমা পড়েছে। এই শ্রমিকদের মধ্যে কেউ ৬০ বছরের মধ্যে সাধারণভাবে মারা গেলে স্টেট গ্র্যাচুইটি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পরিবারকে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে পরিবারকে দেওয়া হয় দু’লক্ষ টাকা। জেলায় ১৬৩৪ জন নির্মাণ শ্রমিককে ৭ কোটি ১৫ লক্ষ ৩ হাজার ৮৫৮ টাকা ও ১৩৪ জন পরিবহণ কর্মীকে ১ কোটি ৩ লক্ষ ৭ হাজার ১৮ টাকা পেনশন বাবদ প্রদান করা হয়েছে।