নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার দিনই ভাড়াটে ‘সৈনিক’দের জন্য রাজ্যে এসে পৌঁছল বাহন। বিহার থেকে প্রতিটি জেলার জন্য পাঠানো হয়েছে বাইক। এদিন সেরাজ্য থেকে ৫৫টি বাইক বর্ধমান স্টেশনে আসে। রাজেন্দ্রনগর থেকে সেগুলি বুকিং করে পাঠানো হয়। গন্তব্য ছিল বর্ধমান জেলা পার্টি অফিস। সেখান থেকে বাইকগুলি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বাইক আসার খবর তৃণমূলের কাছে এসে পৌঁছতেই বিপত্তি হয়। শাসক দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে জমায়েত হন। কী উদ্দেশ্যে এতগুলি বাইক একসঙ্গে পাঠানো হল, তা জানতে চেয়ে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
বর্ধমান শহরের তৃণমূলের সভাপতি তন্ময় সিংহরায় বলেন, বহিরাগতদের এনে অশান্তি পাকানোর জন্যই বিজেপি বাইক পাঠাচ্ছে। এরপর হয়তো ওরা বোমা, দুষ্কৃতী পাঠাবে। বাইকগুলির আসল নথি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, বাইকগুলি রেলওয়ের নিয়ম মেনে বুকিং করে পাঠানো হয়েছে। রেল কখনই অবৈধ জিনিসের বুকিং নেয় না। বাইকগুলি দলের নামে কেনা হয়েছিল। দলের যাঁরা ‘অফিসিয়াল স্টাফ’, তাঁদের কাজের সুবিধার জন্য পাঠানো হয়েছে। আসলে তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতি করতে অভ্যস্ত। সেই কারণে বৈধ জিনিসকেও তারা অবৈধ ভাবছে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যে গেরুয়া শিবিরের গোবলয়ের নেতারা এরাজ্যে আসবেন। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই বাইক নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে গ্রামে গ্রামে ঘুরবেন। এর আগে বিহারের নির্বাচনে বাইকগুলি কাজে লাগানো হয়েছিল। সেখান থেকেই এরাজ্যে এদিন ৫৫টি বাইক পাঠানো হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও বাইক পাঠানো হবে। বিহার ছাড়া অন্য রাজ্য থেকেও ‘বাহন’ আসবে। বিরোধীদের কটাক্ষ, এরাজ্যে বিজেপির কোনও কিছুই নেই। সেই কারণে তাদেরকে বাইরে থেকে বাহন, ভাড়াটে লোক আনতে হচ্ছে। তবে, এসবে লাভ হবে না বলে তাদের দাবি। এর আগেও বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভাড়াটে ‘সৈনিক’দের এনেছিল। তারপরও তারা মুখ থুবড়ে পড়ে।
বিহারের রেজিস্ট্রেশন হওয়া এতগুলি বাইক এদিন দুপুরে বর্ধমান স্টেশনে নামানোর সময় হইচই পড়ে যায়। যাত্রীরাও অবাক হয়ে যান। খবর যায় তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের কাছে। তাঁরা জমায়েত হয়ে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি করেন। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, বুকিংয়ের নথি দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ৫৩ হাজার ২৪৬টাকা খরচ করে বুকিং করা হয়েছে। বুকিং কর্তার নামও জানা গিয়েছে। কী কারণে বাইকগুলি আনা হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।