নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এক সপ্তাহেই বাঁকুড়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম আপলোড হাফ সেঞ্চুরি পার হয়ে গিয়েছে। রবিবার পর্যন্ত জেলাজুড়ে ৫১শতাংশ ফর্ম আপলোড হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসাররা(বিএলও) কার্যত দিনরাত জেগে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বিএলওদের কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে শালতোড়ার পাবরা অঞ্চলের মতো বাঁকুড়ার বেশকিছু বুথের ভোটারদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কর্তারা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এদিন পর্যন্ত ৫১শতাংশের কিছু বেশি ইনিউমারেশন ফর্ম কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা গিয়েছে। ওইসব ফর্মের তথ্য বিএলওরা পোর্টালে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। জেলার বিএলওরা মোটের উপর ভালো কাজ করছেন। শালতোড়া সহ অন্যান্য ব্লকের কিছু বুথের তথ্য আপলোডে সমস্যা হচ্ছে। ওইসব বুথের সিংহভাগ ভোটারের তথ্য কমিশনের পোর্টালে নেই। এমনকি, ২০০২সালের অনলাইন ভোটার তালিকা নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। ফলে বিএলওরা সংশ্লিষ্ট বুথে জমা পড়া ইনিউমারেশন ফর্মের তথ্য আপলোড করতে পারছেন না। আমরা রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছি।
এক বিএলও বলেন, অন্যান্য জেলার বিএলওদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁদের মতো রাজনৈতিক চাপ বাঁকুড়ায় নেই বললেই চলে। বিএলএ-টু’রা আমাদের সাহায্য করছেন। যে কোনও সমস্যা জানানো হলে প্রশাসনও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ফলে এই জেলায় চাপ ও হুমকির মুখে বিএলও অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর মতো অপ্রীতিকর ঘটনা তেমন ঘটছে না। তবে ফর্ম আপলোড করতে অনেক সময় লাগছে। এব্যাপারে সময়সীমা বৃদ্ধি করলে ভালো হয়।
জেলা নির্বাচনী দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর, এক মাস ধরে ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ চলবে। কমিশনের তরফে পরবর্তী নির্দেশ না এলে ৪ডিসেম্বরের পর আমরা কোনও ফর্ম জমা নেব না। ফলে তার আগেই সাধারণ মানুষ থেকে জনপ্রতিনিধি, সকলকেই নিজ নিজ বিএলওর কাছে ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বিএলও’দেরও এবিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, জেলায় মোট প্রায় ৩১ লক্ষ ভোটার রয়েছে। শেষবার এরাজ্যে ২০০২ সালে এসআইআর হয়েছিল। সেই কারণে কমিশনের তরফে ওই বছরের ভোটার তালিকাকে নতুন রিভিশনের ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রশাসনের ছাপানো ফর্মে বর্তমান তালিকায় থাকা ভোটারদের নাম রয়েছে। ভোটার পিছু দু’টি করে ফর্ম ছাপা হয়েছিল। প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম দু’সপ্তাহ ওই দুই ফর্ম বিএলওরা বাড়ি বাড়ি বিলি করেছেন। একটি ফর্ম পূরণ করার পর বিএলও জমা নিচ্ছেন। অন্যটি ‘রিসিভ কপি’ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে দেওয়া হচ্ছে। জমা পড়া ফর্মের তথ্য বিএলওদের তুলতে হচ্ছে কমিশনের পোর্টালে। সেই কাজ বর্তমানে জেলাজুড়ে জোরকদমে চলছে।