Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

২০ হাজার টাকাও পিএফ পান না ৫০ শতাংশ, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে আয়ে টান, অবসরের আগেই তহবিল ভাঙছে মধ্যবিত্ত

১) মূল্যবৃদ্ধি, ২) আয়ে টান, ৩) আয়ের থেকে বহু ক্ষেত্রেই বেশি খরচ, ৪) ঋণের বোঝা, ৫) ধুঁকতে থাকা স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ এবং ৬) সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন। এই সব মিলিয়েই নতুন ভারতে মধ্যবিত্তের দিন গুজরান। বিশেষত চাকরিজীবী মানুষের। ফল? ভবিষ্যতের সবচেয়ে সুরক্ষিত তহবিল ভেঙে ফেলা।

২০ হাজার টাকাও পিএফ পান না ৫০ শতাংশ, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে আয়ে টান, অবসরের আগেই তহবিল ভাঙছে মধ্যবিত্ত
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০১
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ১) মূল্যবৃদ্ধি, ২) আয়ে টান, ৩) আয়ের থেকে বহু ক্ষেত্রেই বেশি খরচ, ৪) ঋণের বোঝা, ৫) ধুঁকতে থাকা স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ এবং ৬) সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন। এই সব মিলিয়েই নতুন ভারতে মধ্যবিত্তের দিন গুজরান। বিশেষত চাকরিজীবী মানুষের। ফল? ভবিষ্যতের সবচেয়ে সুরক্ষিত তহবিল ভেঙে ফেলা। অর্থাৎ, পিএফের টাকায় হাত। তার জেরে বর্তমান হয়তো কোনওমতে টিকে যাচ্ছে, কিন্তু খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে অবসরকালীন ভবিষ্যৎ। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফওর দেওয়া তথ্যই বলছে, কোটি কোটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীর অবসরের পর শেষ অবলম্বন হিসাবে প্রাপ্ত টাকার অঙ্ক ৫০ হাজারও নয়। শেষ অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে যাঁরা পিএফ থেকে ফাইনাল সেটলমেন্ট বা সর্বশেষ সঞ্চিত টাকা তুলে নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ব্যক্তি ৫০ হাজার বা তারও কম পেয়েছেন। আর ৫০ শতাংশ বেসরকারি কর্মী ২০ হাজার টাকাও নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি।

Advertisement

পিএফের আওতায় থাকা বেসরকারি কর্মীদের ন্যূনতম পেনশন হাজার টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মনমোহন সিং। ২০১৪ সালের গোড়ায়। ওই বছরই ক্ষমতায় আসার পর তা প্রশাসনিকভাবে চালু করে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তার ১০ বছর কেটে গেলেও ন্যূনতম পেনশন আর এক টাকাও বাড়ায়নি তারা। মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে হাজার টাকায় যে জলও গরম হয় না, তা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আর শুধু প্রবীণ নাগরিক নয়, সংসারে ঘাটতির বোঝা বাড়ছে চাকরিজীবীদের কাঁধেও। সামাজিক সুরক্ষার অভাব এবং আয়ের টান এমন পর্যায়ে তাঁদের ঠেলে দিচ্ছে যে, পিএফের টাকায় হাত দেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। বস্তুত মোদি সরকারই তাঁদের জন্য সেই পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে। পিএফ দপ্তরে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফিরিস্তি দিতে গিয়ে শ্রমমন্ত্রকই জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে  ৫ কোটি ৮ লক্ষ ক্লেম বা টাকা তুলে নেওয়ার অনুরোধ প্রসেস করেছে ইপিএফও। তার মোট মূল্য ২ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ক্লেমের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ। টাকার অঙ্কটা ছিল ১ লক্ষ ৮৩ হাজার কোটি। অথচ এর দশ ভাগের একভাগ ফাইনাল সেটলমেন্ট। পিএফ কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, প্রযুক্তিগত তৎপরতায় মানুষ দ্রুত টাকা হাতে পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আবেদনের পর তড়িঘড়ি টাকা পিএফ গ্রাহককে পাইয়ে দেওয়ার আড়ালে সামাজিক সুরক্ষার দিকটিই যে অন্ধকারে থেকে গিয়েছে, সেই ব্যাপারটি আর প্রকাশ করেনি তারা। দপ্তরের অন্তর্বর্তী রিপোর্টে অবশ্য তা আর চেপে রাখা যায়নি। সেই রিপোর্ট বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ‘ফাইনাল ক্লেম’ মেটানো হয় প্রায় ৫৩ লক্ষ আবেদনে। তাঁদের মধ্যে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা অবসরকালে পেয়েছেন মাত্র ৬৮ হাজার কর্মী। ১০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা প্রাপকের সংখ্যা ৫৩ হাজার। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, পিএফের মতো বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের এই হাল বুঝিয়ে দেয়, দেশের মানুষ কী আর্থিক পরিস্থিতিতে রয়েছেন। মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল শুভাশিস রায় বলেন, ‘কর্মজীবনের মাঝে পিএফের টাকা তুলে নেওয়া ঠেকাতে সরকারের উচিত কঠোর নিয়ম আনা। অন্তত ৫০ শতাংশ টাকা যাতে অ্যাকাউন্টে থাকে, তা বাধ্যতামূলক করা দরকার।’

সম্পর্কিত সংবাদ