নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রবি চাষে সারের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বাঁকুড়ায় ৫০ মেট্রিকটন ইউরিয়া আমদানি করা হয়েছে। মালগাড়ির রেক ভর্তি করে ওই রাসায়নিক সার জেলায় আনা হয়েছে। দ্রুত তা বিভিন্ন দোকানে পাঠানো হবে। এছাড়া জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ১০:২৬:২৬ সার মজুত রয়েছে বলেও কৃষিদপ্তরের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ফলে গত মরশুমের মতো এবার বাঁকুড়ায় সারের কালোবাজারির অভিযোগ উঠবে না বলে কৃষিদপ্তর মনে করছে। বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা দেবকুমার সরকার বলেন, রবি চাষিরা ইতিমধ্যেই ১০:২৬:২৬ সার বাড়িতে মজুত করেছেন। এখনও জেলায় পর্যাপ্ত ১০:২৬:২৬ সার রয়েছে। ফলে ওই সারের ঘাটতি হবে না। শুক্রবার জেলায় ৫০মেট্রিকটন ইউরিয়া এসেছে। তা জেলার দোকানগুলিতে পাঠানো হচ্ছে।
কৃষিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় রাসায়নিক সারের ৭৫ জন পাইকারি ও ১২৫৮ জন খুচরো বিক্রেতা রয়েছেন। তাঁরা দোকান ও গুদাম থেকে দৈনিক সার বিক্রি করেন। কয়েকমাস আগে বাঁকুড়ার বিভিন্ন ব্লকে সারের কৃত্রিম অভাব তৈরি করে কালোবাজারির অভিযোগ ওঠে। খাতড়ায় বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে চাষিরা বিক্ষোভ দেখান। জেলার অন্যান্য ব্লকের বিভিন্ন এলাকাতেও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। চাষিরা বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান। কালোবাজারি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কৃষি দপ্তরের সঙ্গে জেলা প্রশাসন বৈঠক করে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এব্যাপারে কৃষিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। ব্লক কৃষি আধিকারিকদের এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তারা সারের দোকানগুলি নিয়মিত পরিদর্শন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা দাবি করেছেন। সেই কারণে এবার রবি মরশুমের আগে কালোবাজারির অভিযোগ তেমন ওঠেনি বলে তাঁদের দাবি।
খাতড়ার রবি চাষি উৎপল ঘোষ, বড়জোড়ার প্রশান্ত সরকার বলেন, প্রতিবার ১০:২৬:২৬ সারের কৃত্রিম অভাব তৈরি করে বিক্রেতাদের একাংশ বেশি দামে তা চাষিদের কিনতে বাধ্য করেন। এমআরপি বা বস্তায় মুদ্রিত মূল্যের থেকে বেশি দামে সার কিনে আমরা চাষ করেছি। এবার এখনও পর্যন্ত সেই সমস্যা হয়নি। তবে রবি মরশুমের পুরোটা এখনও বাকি রয়েছে। ফলে এই নজরদারি আগামী তিন মাস কৃষি দপ্তরকে জারি রাখতে হবে।