Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের ভাঙছে কুয়ে নদীর পাড় ভিটেহারা হওয়ার আশঙ্কায় ৫০ পরিবার

বর্ষার আগে ফের ভাঙতে শুরু করেছে কুয়ে নদীর পাড়। তাই ভরতপুর ১ ব্লকের ইব্রাহিমপুরের ৫০টিও বেশি পরিবার আতঙ্কিত

ফের ভাঙছে কুয়ে নদীর পাড় ভিটেহারা হওয়ার আশঙ্কায় ৫০ পরিবার
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: বর্ষার আগে ফের ভাঙতে শুরু করেছে কুয়ে নদীর পাড়। তাই ভরতপুর ১ ব্লকের ইব্রাহিমপুরের ৫০টিও বেশি পরিবার আতঙ্কিত। কখন যে বাড়ি নদীতে তলিয়ে যায় সেই ভেবে রাতের ঘুম উড়েছে পরিবারগুলি। যদিও সেচদপ্তর থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

Advertisement

ওই ব্লকের আঙারপুর ব্রিজের কাছেই ইব্রাহিমপুর গ্রাম। প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, তিনটি মসজিদ। দু’ দশক আগে গ্রামটি প্রায় ৫০০ মিটার দক্ষিণে অবস্থান করত। এখন সেই জায়গায় বইছে কুয়ে নদী। পাড় ভেঙে নদী উত্তরে সরে আসায় বাসিন্দারাও উত্তরে সরতে শুরু করেছেন। বাড়ি জমিজমা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায়, পরিবারগুলির অনেকে দূরে মাঠের দিকে নতুন বাড়ি বানিয়েছেন। তবে অনেক দুঃস্থ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন কান্দি-সালার রাজ্য সড়কের পাশে সরকারি জমিতে। বানাই শেখ বললেন, বাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় সরকারি রাস্তাতেই আশ্রয় নিতে হয়েছে। কিছু টাকা জমাতে পারলে নিজের জায়গায় বাড়ি তৈরি করব।
এদিকে সম্প্রতি ওই গ্রামের কাছে কুয়ে নদীর লেফ্ট এমব্যাঙ্কমেন্টের পাড়ে ভাঙন ধরতে শুরু করেছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, নদী বাঁধের ভিতর দিকে এখনও শতাধিক পরিবার বসবাস করেন। রয়েছে স্কুল, মাটির বাড়ি, পাকা বাড়ি ও গোয়াল ঘর। অনেকের বাড়ি একেবারে নদীর পাড় বরাবর। ওইসব পরিবারগুলিই আতঙ্কে ভূগছেন। গ্রামের জালাল শেখের বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি নদীর পাড় বরাবর। জালাল সাহেব বলেন, প্রায় দু’ দশক ধরে নদীর পাড় ভেঙেই চলেছে। গ্রাম সরে এসেছে প্রায় ৫০০ মিটার। আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। তাই নতুন করে ঘর বানানোর সামর্থ্য নেই। এবার নদীর গ্রাসে পড়তে চলেছে আমার এই বাড়িটিও। কখন ভেঙে পড়বে ভেবে রাতে ঘুমোতেও পারি না।
প্রায় একই অবস্থা গ্রামের আরও ৫০টি পরিবারের। সকলেই আতঙ্কে রয়েছেন। চানাই শেখ বলেন, এবছর বর্ষার আগেই পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। নদী ভরা অবস্থায় আমাদের বাড়ি ছেড়ে পালানো ছাড়া উপায় থাকবে না। নুরজাহান বিবি বলেন, একমাত্র বোল্ডার বাধাই বাঁধ আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষা করতে পারে। স্থানীয় গুন্দোরিয়া পঞ্চায়েত সদস্য তথা গ্রামের বাসিন্দা কাফারুল শেখ বলেন, গতবছরই নদীর পাড় বাধাই হয়েছিল বস্তা দিয়ে। এখন ওই বস্তাগুলি খুলে খুলে নীচে পড়ে গিয়েছে। যার ফলে পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। প্রশাসনের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এবছর গ্রামের আরও ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে। যদিও কান্দি মহকুমা সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, দ্রুত ওই এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ