নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহরে কর দেওয়া নিয়ে শহরবাসীর গড়িমসির কারণে পুরসভার বকেয়া টাকার অঙ্ক আকাশ ছুঁয়েছে। সরকারি ভবন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি কর মিলিয়ে পুরসভায় বকেয়ার পরিমাণ ছ’কোটি টাকার বেশি। তাই কর দেওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করতে এবার বিশেষ ছাড় বা ‘রিবেট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষ্ণনগর পুরসভা। বছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর দিতে পারলেই ৫-১০ শতাংশ ছাড় মিলবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর দিতে না পারলে বকেয়া টাকার উপর ১০ শতাংশ জরিমানা ধার্য করবে কৃষ্ণনগর পুরসভা। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কর দিলে ৫ শতাংশ ছাড় পাবেন শহরবাসী।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র এক হাজার টাকা কর দিতেও অনীহা কৃষ্ণনগর শহরের এক নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের। শহরের মাঝেই বিশাল বিল্ডিংজুড়ে রয়েছে নার্সিংহোমটি। সেখানে দৈনিক রোগী ভর্তির সংখ্যাও কম নয়। ফলে নার্সিংহোমের ব্যবসা ভালোই হয়। কিন্তু পুরসভাকে কর দিতে গেলেই ঢোঁকগেলা অবস্থা নার্সিংহোম মালিকের। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধিকে ধরে পুরসভায় কর কমানোর আর্জিও জানিয়েছেন। অনেকেই প্রভাবশালী ও কাউন্সিলারদের ধরে ট্যাক্স কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক তথা পুরসভার প্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, পুরসভায় কর বাবদ বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে। তা আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর জমা করলে পুরসভার তরফে বিশেষ রিবেট দেওয়া হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত শহরের ৪৮ হাজার ৩৫৫টি হোল্ডিংয়ের মধ্যে ২২ হাজার ১৪৯টির কর বকেয়া ছিল। সেই বকেয়া করের পরিমাণ ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। এগুলি মূলত সম্পত্তি করের আওতায় রয়েছে। শহরের ৬৪২টি ব্যবসায়িক হাউজ হোল্ডিংয়ের মধ্যে ১৯৫টির কর বকেয়া রয়েছে। যার পরিমাণ এক কোটি দু’ লক্ষ টাকার বেশি। আবার শহরের ১১৮টি সরকারি হাউজ হোল্ডিংয়ের মধ্যে ৬২টির কর বাবদ বকেয়া রয়েছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের তরফে কৃষ্ণনগর পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর প্রশাসক বসানো হয়েছে। কিন্তু শহরের কর আদায় নিয়ে নির্বাচিত বোর্ড তেমন উদ্যোগ নেয়নি। তার উপর বিভিন্ন সময় বকেয়া করের উপর নেতাদের ইচ্ছেমতো ছাড় দেওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। কিছু হবে না, ধরে নিয়ে অনেকেই সময়মতো কর দেন না। বিশেষ করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
তাই এই প্রবণতায় পরিবর্তন আনতে পুরসভা করদাতাদের জন্য ‘রিবেট’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আগেভাগে কর জমা দিলে যেমন আর্থিক ছাড় মিলবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে সম্পত্তি কর মিটিয়ে দিলে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলবে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, এই দুই পর্যায়ে কর পরিশোধের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে কর পরিশোধ করলে কোনও রিবেট মিলবে না।
পুরকর্তৃপক্ষের দাবি, সময়মতো কর পরিশোধ করলে নাগরিকরা আর্থিক সুবিধা পাবেন। তেমনি পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজ ও পরিষেবা আরও মজবুত হবে।