Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষকবন্ধু প্রকল্পে প্রায় ১৬৯ কোটি টাকা পেলেন জেলার ৫ লক্ষ ৭০ হাজার চাষি

রবি মরশুমে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় বাঁকুড়া জেলার ৫ লক্ষ ৭০ হাজার চাষি প্রায় ১৬৯ কোটি টাকা পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই চাষিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে।

কৃষকবন্ধু প্রকল্পে প্রায় ১৬৯ কোটি টাকা পেলেন জেলার ৫ লক্ষ ৭০ হাজার চাষি
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রবি মরশুমে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় বাঁকুড়া জেলার ৫ লক্ষ ৭০ হাজার চাষি প্রায় ১৬৯ কোটি টাকা পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই চাষিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে। ওই টাকায় চাষিরা রবি মরশুমে ফসল ফলাতে পারবেন বলে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা(প্রশাসন) দেবকুমার সরকার বলেন, এবারের রবি মরশুমের বাঁকুড়ার ৫ লক্ষ৭০ হাজার ৩৫২জন  চাষি কৃষকবন্ধু প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। রাজ্য সরকার জেলার চাষিদের জন্য মোট ১৬৮ কোটি ২৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৬১২ টাকা বরাদ্দ করেছে। সম্প্রতি চাষিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পৌঁছে গিয়েছে।   

Advertisement


কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলায় সবমিলিয়ে মোট প্রায় ছ’লক্ষ কৃষক পরিবার রয়েছে। তারমধ্যে সিংহভাগ চাষিকে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় মূলত প্রান্তিক চাষিরা সুবিধা পেয়ে থাকেন। এক একর পর্যন্ত জমির মালিকরা প্রকল্পের আওতায় আসেন। বছরে দু’বার চাষিরা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস নাগাদ কৃষকবন্ধু প্রকল্প চালু হয়। গত কয়েকবছরে প্রকল্প অনেকটাই গতি পেয়েছে। বছর বছর প্রকল্পে নতুন নতুন চাষির নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য চাষিদের তরফে আবেদন করা হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাষির জমিজমা সংক্রান্ত নথিপত্র কৃষিদপ্তরে জমা দিতে হয়। সেই জমা পড়া আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে উপভোক্তা পরিবারের তালিকা তৈরি হয়। সেই তালিকা জেলা থেকে রাজ্যে পাঠানো হয়। রাজ্য সরকার সেইমতো অর্থ মঞ্জুর করে। বাঁকুড়া তথা জঙ্গলমহলের কৃষকরা ওই প্রকল্পে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় খুশি। বিধানসভা ভোটের আগে এটাই কৃষকবন্ধু প্রকল্পের শেষ কিস্তি। ফলে ওই টাকা দ্রুত চাষিদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাওয়ায় ভোটে শাসক দল ডিভিডেন্ড পাবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।  প্রসঙ্গত, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের জন্য একাধিক একাধিক জনমুখী প্রকল্প নিয়েছে। তারমধ্যে কৃষকবন্ধু প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এরাজ্যে তৃণমূল সরকার বাংলার ফসল বিমা যোজনা চালু করে। আগে বিমার প্রিমিয়ামের টাকা চাষিদের দিতে হতো। কৃষিঋণ প্রদানের সময় ওই টাকা কেটে নেওয়া হতো। বর্তমানে অবশ্য চাষিদের তা দিতে হয় না। রাজ্য সরকার প্রিমিয়ামের টাকা দিয়ে দেয়। ফলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতিতে চাষিরা ক্ষতিপূরণবাবদ অর্থ পান। যদিও চাষে মোট ব্যয়ের তুলনায় ক্ষতিপূরণের অঙ্কের পরিমাণ কম বলে চাষিদের অভিযোগ। বিমার ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বৃদ্ধির দাবিও চাষিরা তুলেছেন।জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কৃষকবন্ধু প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এনেছে। কৃষকরা চাষের খরচের জন্য আবেদন করেন। সেইমতো আমরা চাষিদের তা প্রদান করে থাকি। চাষিরা বছরে ৪-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। আগামী দিনে আরও বেশি চাষি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ