সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ : রবিবার দেখা গিয়েছিল বাঘের পায়ের ছাপ। সোমবার চোখের সামনে দেখা গেল বাঘটিকে। রবিবারই আতঙ্কে ঘুম ছুটেছিল গ্রামের। সোমবার আতঙ্ক দ্বিগুণ। সন্ধ্যা গড়াতেই দরজায় কুলুপ। বাঘটিকে কিছুতেই ধরা সম্ভব হচ্ছে না। বাঘ এমনিতে বুদ্ধিমান প্রাণী। এই বাঘটি আরও ধুরন্ধর। ৪৫ বনকর্মী সেটিকে বন্দি করার কাজে লেগেছেন। তবু কিছুতেই কব্জা করা যাচ্ছে না। এখন ধান কাটার মরশুম। সে কাজ লাটে ওঠার জোগাড়। সবমিলিয়ে ভয়ে থরথর কাঁপছে পাথরপ্রতিমার শ্রীধরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপেন্দ্রনগর।
উপেন্দ্রনগরের তমলুকপাড়া জঙ্গলে রবিবার বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছিল। তারপর বনকর্মীরা জঙ্গল নাইলনের জাল দিয়ে ঘিরে দেন। সোমবার বাঘটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পাতা হয় খাঁচা। তার ভিতরে ছাগলের টোপ। কিন্তু তাতে ফল হয়নি। বাঘটি বুদ্ধিমান। কিছুতেই ধরা দিচ্ছে না। জঙ্গল বরাবর প্রায় চার কিলোমিটার পথ হেঁটে সেটি পৌঁছয় দিন্দা পাড়ায়। গ্রামবাসীদের অনুমান, ধান খেতের পাশের খালে সেটি জল খেতে এসেছিল। এখন বাঘের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের। সন্ধ্যা নামলেই কেউ বাড়ির বাইরে বেরচ্ছেন না। মঙ্গলবার দিনভর সবাইকে সতর্ক করতে গ্রাম পঞ্চায়েত মাইকিং করে। গ্রামবাসীদের নদীতে গিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে নিষেধ করা হয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনে জঙ্গলে নতুন করে দু’টি খাঁচা পাতা হবে। নাইলনের জাল দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। বর্ণালী মাইতি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একবার এই এলাকায় বাঘ ঢুকেছিল। তখন খুব আতঙ্কে থাকতে হয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতি। তিনদিন হয়ে গেল এখনও বাঘ ধরতে পারল না। ধান কাটার কাজ চলছে। খুব আতঙ্কের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। রাত হলেই সবাই ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ছি।’ পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানা বলেন, ‘বর্তমানে একটি খাঁচা পাতা হয়েছে। প্রয়োজনে ছাগলের টোপ দিয়ে রাতে আরও দু’টি খাঁচা পাতা হতে পারে।’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার এডিএফও পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঘটিকে ধরার জন্য ৪৫ জনের একটি দক্ষ দল কাজ করছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ নিজস্ব চিত্র