Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরভোটে পদ্মের টিকিটে ৪৪ ‘পরীক্ষিত’ তৃণমূল! শুভেন্দুর কাছে জমা পড়া তালিকা পৌঁছল দিল্লিতে

এক-দু’জন নয়, সংখ্যাটা দুই কুড়ির বেশি। রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, বিজেপির কাছে অভিজ্ঞ-দক্ষ ‘পরীক্ষিত’ ৪৪ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের নামের তালিকা জমা পড়েছে।

পুরভোটে পদ্মের টিকিটে ৪৪ ‘পরীক্ষিত’ তৃণমূল! শুভেন্দুর কাছে জমা পড়া তালিকা পৌঁছল দিল্লিতে
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক-দু’জন নয়, সংখ্যাটা দুই কুড়ির বেশি।  রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, বিজেপির কাছে অভিজ্ঞ-দক্ষ ‘পরীক্ষিত’ ৪৪ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের নামের তালিকা জমা পড়েছে। যদিও সেই তালিকার যে সবাই কলকাতা পুরভোটে বিজেপির প্রার্থী হতে পারবেন, তেমনটা অবশ্য নিশ্চিত নয়। জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে জমা হওয়া সেই তালিকা দিল্লি-দরবারে পৌঁছেছে। সেখান থেকে ক’জনের নামে সবুজ সংকেত আসে, এখন সেটাই দেখার। অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর পরেই নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন ধরে নিয়ে এগোচ্ছে কালীঘাটও। ইতিমধ্যেই ওয়ার্ড ধরে ধরে পুরনো প্রাক্তন কাউন্সিলারদের ফোন ঘোরাচ্ছেন মমতা-শিবিরের নেতারা। কোন ওয়ার্ডে কে তাঁদের সঙ্গে আছেন, কিংবা কাউন্সিলার ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিকিটে লড়তে আগ্রহী, ফোন করে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও পিছিয়ে নেই। তাঁরাও পুরভোটের বিষয় নিজেদের ঘরোয়া বৈঠক সেরে ফেলেছেন। তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলাররা অনেকেই অবশ্য ঋত-শিবিরের হয়ে দাঁড়াতে নিমরাজি।  

Advertisement

পালাবদলের পর থেকেই মাথাচাড়া দিয়েছে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। শীর্ষ নেতৃত্ব যতই রাশ টানার চেষ্টা করুক, নীচুতলায় ‘আমরা সবাই রাজা’র মেজাজ গেরুয়া-শিবিরে। তাই দিকে দিকে তোলাবাজি, হাঙ্গামার নালিশের পাশাপাশি পুরভোটের দামামা বাজতেই শুরু হয়েছে ‘টিকিট কাড়াকাড়ি’। প্রত্যেক এলাকায় অন্তত বিজেপির হাফ ডজন নেতা-গোষ্ঠী। প্রত্যেকেই টিকিট-প্রার্থী! ফল? বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ডভিত্তিক ‘প্রার্থী’র নাম বাছতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নেতৃত্বকে। তাই রাজনীতির মঞ্চে ভেসে উঠেছে সেই তৃণমূলের ‘পরীক্ষিত’ জনপ্রতিনিধিদের নাম। কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নাম শোনা যাচ্ছে ‘পরিচিত’ তৃণমূল কাউন্সিলারদেরই। কোথাও আবার প্রাক্তন মন্ত্রীও আলোচনায় ঘোরাফেরা করছেন। বিজেপির অন্দরমহলের যুক্তি, ওই জনপ্রতিনিধিদের ‘অভিজ্ঞতা’য় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দল-সংগঠন ও একইসঙ্গে পুর-প্রশসান মসৃণভাবে চালানো যাবে। ইতিমধ্যেই কলকাতার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে ২০৯টি ওয়ার্ড হয়েছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কলকাতা এবং বেহালা মিলিয়ে ২৪ জনের তালিকা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূলী তথা এক বর্ষীয়ান মহিলা জনপ্রতিনিধি। সূত্রের খবর, সেই তালিকায় বেশিরভাগ অভিজ্ঞ এবং দক্ষ প্রাক্তন কাউন্সিলার রয়েছেন। রয়েছেন প্রাক্তন তিন মেয়র পরিষদের কন্যা এবং পুত্রের নামও। রয়েছেন একাধিক প্রাক্তন মেয়র পরিষদ এবং প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যানও। আবার আনকোরা কয়েকজনের নামও আছে। দক্ষিণ কলকাতা এবং বেহালার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ‘দূত’ হিসেবে এই ‘পরীক্ষিত’ তৃণমূলীদের সঙ্গে যোগাযোগ সামলাচ্ছেন দক্ষিণ কলকাতার এক বিজেপি নেতা। উত্তর কলকাতার ২০ জনের তালিকা জমা দিয়েছেন এক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সেখানেও প্রাক্তন কাউন্সিলার এবং বরো চেয়ারম্যানরা রয়েছেন। রয়েছেন এক প্রাক্তন মহিলা মন্ত্রীর কন্যার নামও। 
জানা গিয়েছে, ফিরহাদ-ঘনিষ্ঠ বেহালা অঞ্চলের এক প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান সম্প্রতি শিল্প ভবনে গিয়ে দেখাও করে এসেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে। তালিকায় রয়েছেন পাটুলি, সাঁপুইপাড়া, কসবা, রাসবিহারী, নিউ আলিপুর, আলিপুর, ভবানীপুর, গার্ডেনরিচ, গড়িয়াহাট, দমদম, শোভাবাজার, উল্টোডাঙা, মুচিবাজার, বউবাজার, বাগবাজার সহ শহরের বিভিন্ন এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলাররা। বিজেপির উত্তর কলকাতার এক প্রাক্তন কাউন্সিলারও মমতা-তৃণমূলে থাকা ‘পরিচিত’দের ফোন ঘোরাচ্ছেন। তবে, সকলেই যে বিজেপির টিকিট পেয়ে যাবেন, এমনটা অবশ্য চূড়ান্ত নয়। সেক্ষেত্রে ‘ভাবমূর্তি’কেই টিকিট পাওয়ার ছাড়পত্র হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ