Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরী-হাওড়া বন্দে ভারতে উদ্ধার ৪৩ কেজি গাঁজা!

সিসি ক্যামেরার নজরদারি, কড়া নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট স্টেশন ছাড়া দরজা খোলার উপায় নেই। অথচ সেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সিটের নীচেই পড়ে ছিল ৪২ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা!

পুরী-হাওড়া বন্দে ভারতে উদ্ধার ৪৩ কেজি গাঁজা!
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সিসি ক্যামেরার নজরদারি, কড়া নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট স্টেশন ছাড়া দরজা খোলার উপায় নেই। অথচ সেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সিটের নীচেই পড়ে ছিল ৪২ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা! বুধবার রাতে পুরী-হাওড়া ২২৮৯৬ বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সাঁতরাগাছি ওয়াশিং লাইনে ঢোকার পর পরিষ্কারের সময় উদ্ধার হয় চারটি পরিত্যক্ত ব্যাগ। তার মধ্যে দু’টি পিঠের ব্যাগ এবং দু’টি ছোটো ট্রলি। ভিতরে মোট ২১টি প্যাকেটে ঠাসা ছিল ওই বিপুল পরিমাণ গাঁজা। এমন প্রিমিয়াম ট্রেনে মাদক পাচারের ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো উঠেছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ৮টায় ট্রেনটি হাওড়া স্টেশনে ঢোকার কথা থাকলেও বুধবার ট্রেনটি প্রায় ৪৫ মিনিট দেরিতে আসে। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর ট্রেনটিকে সাঁতরাগাছি ওয়াশিং লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোচ সাফ করার সময় এক কর্মীর নজরে আসে সিটের নীচে পড়ে থাকা ব্যাগগুলি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আরপিএফ। এরপর শালিমার জিআরপি এসে গাঁজা উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মাদক বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে আপাতত কোর্টের মালখানায় রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বন্দে ভারতের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনে এত বিপুল পরিমাণ মাদক পৌঁছাল কীভাবে? নিয়মিত ওই ট্রেনে যাতায়াতকারী হোটেল ব্যবসায়ী অংশুমান বাগচী বলেন, ‘গোটা ট্রেন সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকে। নির্দিষ্ট স্টেশন ছাড়া দরজা খোলার সুযোগ নেই। তাহলে যাত্রী সেজে কেউ কীভাবে এত মাদক নিয়ে উঠল?’ যাত্রীদের অনেকরই প্রশ্ন, বন্দে ভারতের মতো ট্রেনে যদি এত বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে কেউ অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে, তাহলে নজরদারির ফাঁক গলে আরও বিপজ্জনক কিছু নিয়ে তো যে কেউ উঠে পড়তে পারে!
রেল পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, প্রাথমিকভাবে অনুমান, ওড়িশা থেকেই ওই ট্রেনে গাঁজা তোলা হয়েছিল। হাওড়া স্টেশনে কড়া নিরাপত্তা থাকায় পাচারকারীরা তা নিয়ে নামতে পারেনি। রুটের সমস্ত স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, ‘স্টেশনগুলিতে একাধিক প্রবেশপথ থাকে। কোনোভাবে যাত্রী সেজে মাদক নিয়ে কেউ উঠে থাকতে পারে। তবে যাত্রী নিরাপত্তায় রেল সতর্ক বলই সময়মতো তা ধরা পড়েছে। সম্প্রতি রাঁচি ও জামশেদপুরেও রেল পুলিশের তৎপরতায় মাদক উদ্ধারের নজির রয়েছে।’ এদিকে, কারা এই গাঁজা এনেছিল, কোথা থেকে ট্রেনে উঠেছিল এবং কোথায় পাচারের কথা ছিল, সবই খতিয়ে দেখছে জিআরপি।  উদ্ধার হওয়া গাঁজা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ