সংবাদদাতা, কাটোয়া: দিনের পর দিন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে ‘গায়েব’ হয়ে যাচ্ছেন রোগীরা। চিকিৎসারত অবস্থায় রোগী পালানোর প্রবণতা বাড়ছে এই হাসপাতালে। নিয়মমতো ডিসচার্জ বা ছুটি না নিয়েই রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি পালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ রোগীদের খোঁজে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের কর্মীরা। পুলিসের দ্বারস্থ হয়েও লাভ হয়নি। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আসলে অনেক রোগীর হাসপাতাল থেকে পালানোর প্রবণতা থাকে। নিরাপত্তারক্ষীদের আরও কঠোর হতে হবে।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় গড়ে দশ জনের বেশি রোগী হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ, আগস্ট মাসে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন রোগী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে বেমালুম গায়েব হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের ‘নিখোঁজ’ বলে থানায় ডায়েরিও করা হয়েছে। কেউ বাথরুমে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে পালাচ্ছেন তো আবার কেউ আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অছিলায় হাসপাতাল থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি এই হাসপাতাল থেকে রোগীদের পালানোর কথা স্বীকার করে নিয়েই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হতেই বহু রোগী পালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসক ছুটি না দিতেই তাঁরা চলে যাচ্ছেন। এতে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। আমরা নিখোঁজ দেখিয়ে থানায় ডায়েরি করি। এর জন্য রোগীদের পরিজনদের সচেতন হতে হবে। সেইসঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
কাটোয়ার এই মহকুমা হাসপাতালের উপর মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানের মানুষ নির্ভরশীল। প্রতিদিন এই হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় স্বাস্থ্য কর্মীদের। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত হওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগীর চাপ। এই মুহূর্তে কাটোয়ার এই হাসপাতালে প্রসূতি, পুরুষ, মহিলা, শিশু সহ মোট ২৮৬ টি শয্যার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভিতরে জায়গা অপরিসর থাকায় ২৫৬টি শয্যা রয়েছে। নিয়ম হচ্ছে চিকিৎসার পর পরীক্ষানিরীক্ষা করে রোগীদের সুস্থতা নিয়ে চিকিৎসক নিশ্চিত হলে তবেই ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই একটু সুস্থ হলেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের কর্মীদের একাংশের দাবি, অনেক হাঁপানি রোগী চিকিৎসার পরে একটু স্থিতিশীল হলেই পালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া ভর্তির সময় যে ফোন নম্বর দেওয়া থাকে সেখানে ফোন করেও তাঁদের পাওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এক শ্রেণির দায়িত্বজ্ঞানহীন রোগী এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। -নিজস্ব চিত্র