সংবাদদাতা, খড়্গপুর: গবেষণা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকায় জায়গা করে নিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক ও গবেষক। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণামূলক কাজ, উদ্ভাবন, আবিষ্কার প্রভৃতির ভিত্তিতে বিশ্বের সেরা দু’ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকা প্রস্তুত করে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছর তাঁদের প্রকাশিত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার অধ্যাপক। গণিত বিভাগের দুই অধ্যাপক মধুমঙ্গল পাল ও শঙ্করকুমার রায়, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক সুশান্তকুমার চক্রবর্তী এবং কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বপতি জানা বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। অধ্যাপক মধুমঙ্গল পাল এবং শঙ্করকুমার রায় টানা সাত বছর ধরে এই তালিকায় আছেন। অন্যদিকে, ‘স্কলারলি ইনডেক্স’-এর বিচারে বিশ্বের প্রথম এক হাজার বিজ্ঞানীদের তালিকাতেও স্থান করে নিয়েছিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক তথা বিজ্ঞানী। আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক মধুমঙ্গল পাল, শঙ্করকুমার রায়, গণেশ গণেশ ঘোড়াই, পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সত্যজিৎ সাহা, রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস বিভাগের অধ্যাপক যতিশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক কেশবচন্দ্র মণ্ডল, কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক বিশ্বপতি জানা, বায়োমেডিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ এই সাফল্য অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণিত বিভাগের বরিষ্ঠ তিন অধ্যাপক মধুমঙ্গলবাবু, শঙ্করবাবু এবং গণেশবাবু তাঁদের গবেষণার নিরিখে ক্রমতালিকায় যথাক্রমে চতুর্থ, সপ্তম ও ত্রয়োদশ স্থানে আছেন। ব্লাড প্রোটিনের সঙ্গে ন্যানো কণার সংযোগ ঘটিয়ে সরাসরি রক্তে ওষুধ প্রয়োগ এবং তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে টানা চার বছর ধরে যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি পেয়েছেন সত্যজিতবাবু। ক্যানসার প্রতিরোধী কার্যকলাপ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য সাফল্য অর্জন করেছেন কেশবচন্দ্রবাবু। অপরদিকে, আবহাওয়া পরিবর্তন, ভৌমজল, বন্যা, ভূমিধস প্রভৃতি বিষয়গুলি নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণার স্বীকৃতি পেয়েছেন যতিশংকরবাবু। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপককুমার কর বলেন, ‘এই সাফল্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। জঙ্গলমহলের এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের দরবারে ক্রমশ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছে।’



