নিজস্ব প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ: ঘটনার খবর পেয়েই কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো কৃষ্ণনগরের পুলিস তৎপর হয়ে ওঠে। বারো ঘণ্টার মধ্যে কালীগঞ্জে বোমাবাজিতে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। মঙ্গলবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়। মানোয়ার শেখ ও কালু শেখ নামে দুই অভিযুক্তের পুলিস হেফাজত হয়েছে। বাকি আনোয়ার শেখ ও আদর শেখের ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়েছে। সোমবার কালীগঞ্জের উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়। বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তৃণমূল। এলাকায় বিজয় মিছিল বের করেন দলের কর্মীরা। মোলান্দি গ্রামেও মিছিল হয়। অভিযোগ, বিজয় উল্লাসের মধ্যেই কয়েকজন গ্রামবাসীর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ফেলা হয়। সেই বোমার ঘায়ে বেঘোরে মারা যায় তমান্না খাতুন নামে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী। তোলপাড় পড়ে গোটা রাজ্যে। পত্রপাঠ মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের রেয়াত না করার বার্তা দেন পুলিসকে। রাতে অভিযান চালিয়ে কালুদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নীরিহ ছোট্ট তমান্নার মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মোলান্দির বাসিন্দারা। তৃণমূল তাদের বিজয় উৎসবের যাবতীয় কর্মসূচি বাতিল করেছে। মঙ্গলবার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে থমথমে পরিবেশ। চাপা উত্তেজনা কোথাও কোথাও। একাধিক বাড়ির দেওয়ালে বোমার আঘাতের চিহ্ন। বসানো হয়েছে পুলিস পিকেট। বিকেল পাঁচটা নাগাদ বাম-কংগ্রেস যৌথভাবে মিছিল করে তমান্নার দেহ গ্রামে আনে। ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, সিপিএমের শ্রমিক সংগঠনের নেতা এস এম সাদি, সিপিএম নেত্রী রমা বিশ্বাস সহ দু’দলের স্থানীয় নেতৃত্ব। সকলেই দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হন। তমান্নার বাবা হোসেন শেখ বলেন, ‘পুলিস চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এখনও অনেক অভিযুক্ত বাইরে ঘুরছে। পুলিস নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে না। বাকিরাও যেন দ্রুত ধরা পড়ে। আমার মেয়ের প্রাণ যারা ছিনিয়ে নিল, তাদের কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করতে হবে।’
তমান্নার দেহ বাড়িতে আসতেই ভিড় করেন গোটা গ্রামের মানুষজন। মা সাবিনা ইয়াসমিনকে কিছুতেই সামলানো যাচ্ছিল না। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলের মতো আচরণ করছিলেন তিনি। পড়শিরা বলছিলেন, সাবিনার আগের চার সন্তান গর্ভস্থ অবস্থায় মারা গিয়েছিল। অনেক চেষ্টার পর কোল আলো করে এসেছিল তমান্না। স্বাভাবিকভাবেই বাবা-মায়ের বড় আদরের ছিল সে। পাড়ার লোকেদের কাছেও অত্যন্ত প্রিয় ছিল ফুটফুটে তমান্না। তাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পড়শিরা। আক্ষেপ করে তাঁরা বলছিলেন, ‘ওদের আনন্দ-উল্লাস এভাবে তমান্নাকে কেড়ে নেবে, তা ভাবতেই পারছি না। দোষীরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায়, সেটা পুলিসকে দেখতে দেখতে হবে।’ কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’