নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেপালে গিয়ে ভয়াবহ হড়পা বানের কবলে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে খোঁজ মিলল ২ জনের। উত্তর ২৪ পরগনার ওই দুই বাসিন্দা হলেন অনুকূল পোদ্দার ও তাঁর স্ত্রী রেবা রায় পোদ্দার। দু’জনেই ষাটোর্ধ্ব। তাঁদের ট্রেনের বদলে প্লেনে ফিরিয়ে এনে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এরাজ্য থেকে নেপাল গিয়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩৭ জন। তাঁদের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। নেপালে গিয়ে দুর্যোগের কবলে পড়া ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভবানী ভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারগুলির পাশে থাকতে রাজ্য ও কেন্দ্রের তরফে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। তাঁর বার্তা, ‘কেউ ভাববেন না, এটা শুধুমাত্র আপনাদের পরিবারের সংকট। রাজ্য সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে।’
এদিন পরিবারগুলির কথা শোনার পর একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদেশ মন্ত্রক অনুমতি দিলে নেপালের কাঠমাণ্ডুতে পদস্থ কর্তাদের একটি দল পাঠাবে রাজ্য। দলের সদস্যরা কাঠমাণ্ডুতে বসে রাজ্যের নিখোঁজদের খোঁজখবর চালানোর কাজ করবে এবং সেই মতো তথ্য পাঠাবে রাজ্যকে। একই সঙ্গে তিব্বতের দিকে আটকে পড়া পরিবারগুলির সদস্যরা সেখানে যেতে চাইলে তাঁদের দ্রুত ভিসাসহ অন্যান্য অনুমতির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিবারগুলির কাছে উদ্ধারকাজ সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে তাঁদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হবে। গ্রুপে থাকবেন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। প্রয়োজনে এই পরিবারগুলির সঙ্গে তিনি আবারও কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মুকুল রায়ের নাতনি তাঁর মায়ের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে কি না, জানতে চান। তারকেশ্বর, দুর্গাপুর, বারাসত, বসিরহাট থেকে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। দমদমের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও মৌ মণ্ডল নিখোঁজ আছেন। তাঁর আত্মীয়রা ভার্চুয়াল বৈঠকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুশ্চিন্তায় মৌ মণ্ডলের বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। পুলিশকে মৌয়ের বাবার খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
খোঁজ পাওয়া অনুকূল পোদ্দার এবং রেবা রায় পোদ্দারের উদাহরণ টেনে সবাইকে এই সংকটের মুহূর্তে শক্ত থাকার আরজি জানিয়েছেন শুভেন্দু। এই দুজেনকে পুলিশ ট্রেনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিল। টিকিটও বুকিং হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ট্রেনে না নিয়ে এসে প্লেনে আনার নির্দেশ দেন পুলিশকে।
প্রাণের খোঁজ। নেপালের ধাদিংয়ে পিটিআইয়ের তোলা ছবি।