নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফ্ল্যাট কেনার পর চুক্তি মতো টাকা দেয়নি ক্রেতা। মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে তদন্তে গিয়েছিল পুলিশ। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্রেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ভবানীপুর এলাকায় উত্তম কুমারের মামার বাড়ি গিরিশ ভবনে। পুলিশ কর্মীরা থানায় ফোন করে তাঁদের আটকে রাখার কথা জানালে অফিসাররা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে এক মহিলা সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভবানীপুর থানা। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা, মারধর সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
ভবানীপুরের বাসিন্দা তথা উত্তম কুমারের মামার বাড়ির আত্মীয় বিষ্ণুপ্রিয়া চক্রবর্তী তাঁর ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছিলেন। দুবে পরিবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফ্ল্যাটটি দেখার পর পছন্দ হয় তাঁদের।
এরপর নিয়মমাফিক চুক্তি হয় দু’পক্ষের। সেখানে উল্লেখ ছিল, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির সময় টাকার একটি অংশ দিতে হবে। বাকি টাকা দিতে হবে ফ্ল্যাটের দখল পাওয়ার পর। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর দাবি, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পর ছ’মাস পেরিয়ে গেলেও চুক্তিমত টাকা পাননি তিনি। টাকা চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। উলটে তাঁর
অনুমতি না নিয়েই ফ্ল্যাটে জানালা বসাতে শুরু করেন। এরপরই তিনি ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। সেই মামলার তদন্ত করতেই বেলা ২টো নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন পুলিশ অফিসার ও কর্মীরা।
অভিযোগ, কলিং বেল বাজানো হলেও দীর্ঘক্ষণ গেট খোলা হয়নি। অনেকক্ষণ পর গেট খোলা হলেও দুবে পরিবারের সদস্যরা পুলিশ কর্মীদের কাছে জানতে চান, সার্চ ওয়ারেন্ট আছে কি না। কিসের ভিত্তিতে তাঁরা এসেছেন? এরপর পুলিশ কর্মীরা ভিতরে ঢুকলে
ভিডিয়ো করতে শুরু করে ফ্ল্যাটের লোকজন। তদন্তকারীদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগই দেওয়া হয়নি।
এরপর পুলিশ কর্মীদের একটি ঘরে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আটকে দেন অভিযুক্তরা। অফিসার ভিডিয়োগ্রাফি করতে গেলে তাঁর ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয় এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, এমনকি তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আটকে পড়া পুলিশ কর্মীরা থানায় ফোন করে বিষয়টি জানালে বাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে। আটক পুলিশ কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ভবানীপুর থানা এক মহিলা সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।