বিশেষ সংবাদদাতা, রায়পুর: ব্লেড চালিয়ে হাত কেটে ফেলছে একের পর এক পড়ুয়া! দু’-একজন নয়, প্রায় ৩৫ জন ছাত্রছাত্রী। ছত্তিশগড়ের ধমতরী জেলার একটি বিদ্যালয়ের এমন ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিভাবকরা রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পড়ুয়ারা এভাবে নিজেরাই নিজেদের হাত ক্ষতবিক্ষত করছে। অথচ তা কেন নজরে আসেনি স্কুল কর্তৃপক্ষের? এমনই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুরুদ ব্লকের দহদাহ গ্রামের ওই স্কুলের ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণির মোট ৩৫ জন পড়ুয়া একে অপরের অনুকরণে একই রকমভাবে নিজেদের হাত কেটেছে। তাদের মধ্যে ২১ জন ছাত্র, ১৪ জন ছাত্রী। গত এক মাস ধরে এই প্রবণতা চলছিল। সম্প্রতি এক অভিভাবকের নজরে পড়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, কীভাবে স্কুলে ভিতরে ব্লেড পৌঁছল? আর এতদিন ধরে একের পর এক পড়ুয়াদের হাতে আঘাতের চিহ্ন কীভাবে শিক্ষকদের নজর এড়িয়ে গেল? এলাকায় ক্রমর্ধমান নেশার প্রভাব এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে বলে অভিভাবকদের একাংশের অনুমান। কেউ কেউ আবার মোবাইল গেমের প্রভাবের সন্দেহও করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় যুক্ত পড়ুয়াদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এই ঘটনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনকে নিয়ে একটি যৌথ দল গঠন করেন পুলিস সুপার সুরজ সিং পরিহার। এই দলের সদস্যরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। একে অপরের অনুকরণে তারা এই কাজ করেছে বলে জানিয়েছে পড়ুয়ারা। পুলিশি তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও প্রবণতা বা সমবয়সীদের চাপ কাজ করছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।