নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পাঁচবছর বন্ধ থাকার পর কৈলাস ও মানস সরোবর যাত্রা ফের চালু হল। শুক্রবার নাথু লা দিয়ে ৩৩ পুণ্যার্থী রওনা দিলেন। তাঁদের সঙ্গে আছেন দু’জন লিয়াজঁ অফিসার ও একজন চিকিৎসক। সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথমে দলে ছিলেন ৪৬ জন। শারীরিক কারণে মোট ৩৬ জন নাথু লা দিয়ে কৈলাসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পুণ্যার্থীদের প্রথম দলটির যাত্রা উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন সিকিমের রাজ্যপাল ওমপ্রকাশ মাথুর ও ওই রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানান সিকিমের পর্যটন ও অসামরিক বিমান পরিবহণ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সিএস রাও। সিকিমের পর্যটনমন্ত্রী শেরিং থেন্দুপ ভুটিয়া বলেন, ‘পাঁচবছর পর নাথুলা দিয়ে ফের কৈলাস যাত্রা শুরু হওয়ায় সিকিমের পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার হল।’
সিকিমের নাথু লা ও উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস দিয়ে এবার কৈলাস ও মানস সরোবর যাত্রা করছেন পুণ্যার্থীরা। চলতি মাসে শুরু হয়ে চলবে আগস্ট পর্যন্ত। পাহাড়ি পথে এ সময় বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও বরফ তেমনভাবে থাকে না। ফলে ট্রেক রুটে চরম সমস্যায় পড়তে হয় না পুণ্যার্থীদের। তা ছাড়া সড়ক পরিকাঠামো এখন অনেকটাই উন্নত। ফলে আগের মতো বাসযাত্রার ধকল নেই। নাথু লা থেকে মানস সরোবরের দূরত্ব প্রায় দেড় হাজার কিমি। এই পথে পুণ্যার্থীদের ৩৫ কিমি ট্রেক করতে হয়। কৈলাস যাত্রায় ট্রেকিং রুট ৫২ কিমি। যা পার করতে সময় লাগে তিনদিন। লিপুলেখ দিয়ে পুণ্যার্থীদের পৌঁছতে লাগবে ২২ দিন। নাথু লা দিয়ে যেতে সময় লাগবে ২১ দিন।
ভারত-চীন ডোকলাম সংঘাত, গালওয়ান সংঘর্ষ এবং করোনা অতিমারী, এই ত্র্যহস্পর্শে ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যায় কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা। ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ কিছুটা গলায় কৈলাস-মানস যাত্রা আগের মতো করতে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে দু’দেশ।