Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হুগলি জেলায় শস্যবিমায় আবেদন ৩ লক্ষ ৩০ হাজার, ফসলের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় কৃষকরা

হুগলি জেলায় বাংলা শস্যবিমায় আবেদন সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার। চলছে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ।

হুগলি জেলায় শস্যবিমায় আবেদন ৩ লক্ষ ৩০ হাজার, ফসলের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় কৃষকরা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হুগলি জেলায় বাংলা শস্যবিমায় আবেদন সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার। চলছে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ। আমন রোপণের আগে খানাকুল-১ ও ২ ব্লকের বিঘার পর বিঘা জমি প্লাবিত হয়। ফলে সেই এলাকার চাষিরা বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে আশা। যদিও বিমায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তরজাও শুরু হয়েছে। 

Advertisement

বিজেপির বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, বন্যা কবলিত অনেক এলাকায় চাষ করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন চাষিরা। রাজ্য সরকার বিমার ব্যবস্থা রাখলেও বিগত দিনে প্রকৃত বহু চাষি বিমার ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। চলতি বছরেও অনেকে ধান চাষ করতে পারেননি। তাঁরা ক্ষতিপূরণ পেলে পরবর্তী চাষের সুবিধা হত। হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূলের মদনমোহন কোলে বলেন, বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিগত দিনে খানাকুল সহ আরামবাগ মহকুমার বহু চাষি ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন। গত বছর বাঁধ ভেঙে আলু চাষে ক্ষতি হয়। সেই সময়ও চাষিদের থেকে সরাসরি সহায়ক মূল্যে আলু কেনা হয়েছিল। এমনকি, অনেককে ক্ষতিপূরণের টাকাও দেওয়া হয়েছে। এবার খানাকুলে আমন ধানে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। তার কাজ চলছে। আপাতত বিমার জন্য আবেদনকারীদের তথ্য পোর্টালে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। 
হুগলি জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গত ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলা শস্যবিমায় চাষিদের আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় এক লক্ষ চাষির নাম বিমার পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছে। সেই কাজ এখন চলছে। নথিভুক্তির কাজের গতি যাতে বাড়ে সেইজন্য বলা হয়েছে। প্লাবনের জেরে যেসব চাষির ধান চাষে ক্ষতি হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ করা হবে। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস খানেক ধরে বাংলা শস্য বিমায় আবেদন সংগ্রহের কাজ জেলায় চলেছে। বিভিন্ন জায়গায় শিবির করা হয়। সেখানে গিয়ে চাষিরা আবেদন পত্র জমা দেন। 
উল্লেখ্য, চলতি বছরের আমনের মরশুমে কয়েক দফায় প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয় আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায়। তারমধ্যে খানাকুলের নিচু এলাকাগুলিতে কৃষি জমিতে দীর্ঘদিন জল জমে থাকে। ফলে বীজতলা নস্ট হয়ে যায়। এমনকি, কৃষি দপ্তরের তরফে বীজ বিলি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ফের প্লাবনে ডুবে যায় কৃষি জমি। তারফলে বেশ কয়েকটি মৌজায় এবার আমনের চাষ করতেই পারেননি চাষিরা। সেইসব এলাকায় চাষিদের ক্ষতিপূরণের দাবি উঠেছে। 
কৃষিদপ্তর জানিয়েছে, প্রায় প্রত্যেক এলাকায় চাষিদের থেকে বিমার ফর্ম সংগ্রহ করা হয়েছে। বিমার প্রিমিয়ামও রাজ্য সরকারই দিয়েছে। এবার মৌজা পিছু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা খতিয়ে দেখে ক্ষতিপূরণের আর্জি রাজ্যের কাছে পাঠানো হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ