সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জব ফেয়ার’ থেকে একদিনেই কর্মসংস্থান হল ৩২৪ যুবক-যুবতীর। মঙ্গলবার বহরমপুর শ্রমিক ভবনের জেলা কর্মবিনিয়োগ কেন্দ্রে জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্কিল) সুকান্ত সাহা, ডিস্ট্রিক্ট নোডাল অফিসার (স্কিল) ব্রততী মৈত্র, এমপ্লয়মেন্ট দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টের অংশুমান দেবশর্মা, জেলা এক্সচেঞ্জ অফিসার নির্মাল্য পাল প্রমুখ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছ’শোর বেশি কর্মপ্রার্থী এদিন ‘ওয়াক ইন ইন্টারভিউ’ দিতে হাজির হয়েছিলেন। যোগ্যতার প্রমাণ সহ মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মপ্রার্থীদের বাছাই করা হয়। বাছাই পর্ব শেষে নামীদামি একাধিক সংস্থা কর্মপ্রার্থীদের নিজেদের সংস্থায় যোগ্যতা অনুসারে বিভিন্ন পদে কাজের অফার করে। পুজোর আগে কাজ মেলায় কর্মপ্রার্থীদের মুখে হাসি ফুটেছে। সুকান্ত সাহা বলেন, পুজোর আগে এই ধরনের জব ফেয়ার বহু বেকার যুবক-যুবতীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আমরা খুশি এবং গর্বিত। আরও বেশি সংখ্যক কর্মসংস্থানের চেষ্টা চালাচ্ছি।
উৎকর্ষ বাংলা মুর্শিদাবাদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন প্রতি তিন মাস অন্তর জব ফেয়ারের আয়োজন করে আসছে। উৎকর্ষ বাংলা মুর্শিদাবাদ প্রতিবারই বহু কর্মপ্রার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে দিচ্ছে। মঙ্গলবারের জব ফেয়ার অনুষ্ঠান সব রেকর্ড ছাড়াল। এদিন জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন নামীদামি ১৯টি সংস্থা কাজ দিতে এগিয়ে এসেছিল। কর্মপ্রার্থীদের যোগ্যতার নিরিখে ৩২৪ জনকে কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট নোডাল অফিসার ব্রততী মৈত্র বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুসারে আমরা এই ধরনের জব ফেয়ারের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। জেলা এক্সচেঞ্জ অফিসার নির্মাল্য পাল বলেন, এক বছরের মধ্যে চারটি জব ফেয়ার আমরা করতে পেরেছি। তবে এবার বৃহৎ আকারে হল। প্রচারের মাধ্যমে প্রচুর সংখ্যক কর্মপ্রার্থীকে হাজির করতে পেরেছিলাম। ৩২৪ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। পুজোর আগে কাজের নিশ্চয়তা পেয়ে খুশি যুবক যুবতীরা। বড়ঞা ব্লকের মির্জাপুর থেকে এসেছিলেন সোমনাথ দাস। তিনি বলেন, খুব ভালো লাগছে। রানিনগর ব্লকের শেখপাড়ার বাসিন্দা সাহামিনা খাতুন, হাসিয়া খাতুনরা জানালেন, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাগরদিঘি ব্লকের স্নাতক উত্তীর্ণ আদিবাসী যুবক দেবু মার্ডি বলেন, এক্সচেঞ্জ অফিসের উপর বেকারদের আস্থা বাড়ছে। রাজ্যে কর্মসংস্থানের আকাল ধীরে ধীরে মিটছে। এদিন জব ফেয়ারে মূলত ভোকেশনাল, পলিটেকনিক, আইটিআই পাশ করা পড়ুয়া ও উৎকর্ষ বাংলার অধীনে টেকনিক্যাল ও নন টেকনিক্যাল প্রশিক্ষিতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ইন্টারভিউয়ে আসা প্রার্থীদের মধ্যে মহিলার সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। আগামী ডিসেম্বরে ফের অনুষ্ঠিত হবে জব ফেয়ার।