সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর পুরসভায় হাউস ফর অল প্রকল্পের টাকা পেয়েও অনেক উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেনি। যার ফলে অন্যান্য উপভোক্তাদের আগামী দিনের টাকা আটকে রয়েছে। ৩০০ জনের বেশি উপভোক্তা টাকা পেয়েও বাড়ি তৈরি না করায় পুরসভা বিপাকে পড়েছে। যে সব উপভোক্তা টাকা পাওয়ার পরেও কাজ করেনি পুরসভার তরফ থেকে তাদের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরু না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে পুরসভার তরফ থেকে ১৩টি ওয়ার্ডেই মাইকিং করা হয়েছে। হুঁশিয়ারির পর কাজ কতটা হবে সেইদিকেই প্রশাসন তাকিয়ে রয়েছে।
রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় লটের উপভোক্তাদের সম্পর্ণ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম লটের কয়েকটি কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে টাকা পাওয়ার পরেও পুরসভার ৩০০ জনের বেশি উপভোক্তা এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেনি। সুডা সাফ জানিয়েছে কিস্তি অনুসারে সকলে কাজ সম্পন্ন না করলে কোন উপভোক্তাকেই পরবর্তী টাকা দেওয়া হবে না। তাই সকল উপভোক্তার টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে। অনেকে বলেছিল, পুজোর পরে কাজ শুরু করবে। কিন্তু করেনি। তাই বাধ্য হয়ে মাইকিং করতে হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কাজ না হলে উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রঘুনাথপুর পুরসভার একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে রঘুনাথপুর পুরসভায় হাউস ফর অল প্রকল্পের সূচনা হয়। ওই অর্থবর্ষে ৪৮৬ জনের বাড়ি অনুমোদন করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে মোট ৪০০ জনের বাড়ি অনুমোদন হয়। তাদের প্রত্যেকের আবাসের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে অর্থাৎ তৃতীয় লটে মোট ৭৩৫ জন উপভোক্তার বাড়ি অনুমোদন হয়েছে। চতুর্থ লট অর্থাৎ ২০২০ - ২১ অর্ধবর্ষে মোট ৭০০ উপভোক্তা এবং পঞ্চম লট অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবর্ষের মোট ৯০৬ জনের আবাস অনুমোদন হয়েছে। সেই অনুমোদিত উপভোক্তাদের মধ্যে অনেক উপভোক্তা কাজ করেননি।
পুরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের কাজ বাকি রয়েছে তারা যেমন টাকা পেয়েছে সেই অনুসারে কাজ দেখাতে হবে। তারপর সেই ছবি সুডায় পাঠাতে হবে। কোনও উপভোক্তা যদি ঘর করতে অনিচ্ছুক তাহলে তিনি যে টাকা পেয়েছেন সেই সম্পূর্ণ টাকা পুরসভার হাতে তুলে দিতে হবে। এখন দেখার উপভোক্তারা কী করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাউস ফর অল প্রকল্পে মোট ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাজ্য সরকার ১ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা দেয়। কেন্দ্রীয় সরকার দেয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া উপভোক্তাকে বাড়ি অনুমোদনের সময়ে ২৫ হাজার টাকা পুরসভায় জমা করতে হয়। পরবর্তী সময়ে সেই টাকা বাড়ি তৈরির জন্য ফেরত দেওয়া হয়। বাড়ি তৈরির জন্য যাঁর নাম অনুমোদন হয়, তাঁর নিজস্ব জমি থাকতে হয়।
পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশ শুক্লা বলেন, বর্তমানে তৃণমূল নেতাদের কাটমানির জন্য বালি, পাথর, ইটের দাম উর্ধ্বমুখী। টাকা দিয়েও বালি, পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে সাধারণ গরিব মানুষ কী করে বাড়ি বানাবে। পুরসভার বিষয়টি আগে ভেবে দেখা প্রয়োজন।
রঘুনাথপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা কাউন্সিলার প্রণব দেওঘরিয়া বলেন, সরকারি গাইডলাইন মেনে উপভোক্তাদের কাজ করতে হবে। বালি, পাথর না পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ শহরে প্রচুর মানুষ বাড়ি তৈরি করছেন। উপভোক্তাদের অনেক সময় দেওয়া হয়েছে।