সংবাদদাতা, লালবাগ: বর্ষার শুরুতেই ভাঙনের জেরে লালগোলার তারানগরের কয়েকশো পরিবারের আতঙ্কে ঘুম উবেছে। ইতিমধ্যে পাড় লাগোয়া বেশ কিছুটা জমি নদীগর্ভে গিয়েছে। তারপর গত একসপ্তাহে আর ভাঙন না হলেও পদ্মা ফুঁসছে। এখন নদীর পাড়ের বেশ কয়েকটি বাড়ি ঝুলছে। ফের ভাঙন শুরু হলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের ৩০-৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিবার জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছে। রাতে দল বেঁধে এলাকার যুবকরা পদ্মার উপর নজরদারি চালাচ্ছেন। লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলি বলেন, এটা খুব উদ্বেগের বিষয়। তারানগরের ভাঙন রোধে সেচদপ্তর ৭কোটি ৫২লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।
টানা নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে দু’সপ্তাহ আগে থেকেই পদ্মার জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। আর জল বাড়তেই লালগোলার তারানগরে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এটি লালগোলা ব্লকের একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। এই তারানগর থেকেই সেচমন্ত্রী হয়েছিলেন সামায়ুন বিশ্বাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মইদুল ইসলামও তারানগরের ভূমিপুত্র। এখন এই গ্রামে প্রায় ৪০০পরিবারের বাস।
গ্রামবাসীরা জানান, একদশক আগেও তারানগরের দু’কিমি দূর দিয়ে পদ্মা বয়ে যেত। তখন পদ্মা থেকে কিছুটা দূরে ছিল কালীনগর গ্রাম। সেই গ্রাম এখন নদীগর্ভে। এবার তারানগরকে গিলতে ক্রমশ এগিয়ে আসছে পদ্মা। গতবছর বর্ষার আগে পর্যন্ত তারানগর থেকে পদ্মা কোথাও ২০০মিটার, আবার কোথাও ১৫০মিটার দূরে ছিল। কিন্তু গতবছর ব্যাপক ভাঙনে নদী গ্রামের দুয়ারে হাজির হয়েছে। এখন গ্রামের বাসিন্দা যাদব শীল, ইসলামউদ্দিন, মাইনুল ইসলামের বাড়ি থেকে পদ্মা মাত্র পাঁচমিটার দূরে। মেহেবুব রহমানের বাড়ি নদী থেকে ১০মিটার, ডব্লু শেখ, রফিকুল ইসলাম, জাকারিয়া ইসলামের বাড়ি ২০মিটার ও শ্যামল ঘোষের বাড়ি ৫০মিটার দূরে রয়েছে। ক্যান্সার আক্রান্ত যাদব শীল বলেন, আগে কালীনগরে বাড়ি ছিল। পদ্মার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে তারানগরে এসে ঠাঁই পেয়েছিলাম। গতবছর বাড়ির উঠানেই পদ্মা এসে পৌঁছেছে। মনে হচ্ছে, এবার খোলা আকাশের নীচে দাঁড়াতে হবে। ডব্লু শেখ গ্রামে গ্রামে ঘুরে জামাকাপড় বিক্রি করেন। বড়িতে স্ত্রী ও ছোট ছেলেমেয়ে রয়েছে। ডব্লু বলেন, আতঙ্কে ঘুমোতে পারি না। ঘরবাড়ি পদ্মায় তলিয়ে গেলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব? শ্যামল ঘোষ বলেন, পদ্মা যেভাবে এগচ্ছে, তাতে হয়তো এবছর তারানগর লালগোলার মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।