Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যটক টানতে লাটাগুড়িতে ৩ দিনের লোকসংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন

বড়দিনের মরশুমে পর্যটক টানতে ডুয়ার্সের লাটাগুড়িতে তিনদিনের লোকসংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন। এই উৎসবে তুলে ধরা হবে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জনজাতির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি।

পর্যটক টানতে লাটাগুড়িতে  ৩ দিনের লোকসংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বড়দিনের মরশুমে পর্যটক টানতে ডুয়ার্সের লাটাগুড়িতে তিনদিনের লোকসংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন। এই উৎসবে তুলে ধরা হবে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জনজাতির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। যোগ দিচ্ছেন নেপাল ও ভুটানের লোকশিল্পীরাও। থাকছে স্থানীয় খাবারদাবারের স্টল। প্রদর্শনীতে মিলবে বিভিন্ন জনজাতির পোশাক-পরিচ্ছদ, বাদ্যযন্ত্র চাক্ষুষ করার সুযোগ। সেসব কেনাকাটাও করা যাবে। ২৫-২৭ ডিসেম্বর লাটাগুড়ি ম্যালে অনুষ্ঠিত হতে চলা তৃতীয় বর্ষের এশিয়ান ফোক অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেস্টিভালে চাইলে পারফরম্যান্স করতে পারবেন পর্যটকরাও। এমনটাই জানানো হয়েছে উদ্যোক্তাদের তরফে।

Advertisement

লাটাগুড়ি হোটেল ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই লোকসংস্কৃতি ও পর্যটন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, বড়দিনের মরশুমে ডুয়ার্সে পর্যটকদের যথেষ্টই ভিড় হয়। তাঁদের সামনে এখানকার জনজাতিদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরতে এই উৎসবের আয়োজন। তাঁর সংযোজন, পর্যটকরা মূলত প্রকৃতি, নদী-জঙ্গল ও বন্যপ্রাণের টানে ডুয়ার্সে বেড়াতে আসেন। তাঁদের বেশিরভাগেরই ডুয়ার্সের জনজাতিদের সংস্কৃতি, খাবারদাবার, পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবন-যাপন সম্পর্কে অজানা থেকে যায়। অথচ ডুয়ার্সের জনজাতিদের সংস্কৃতি যেমন বর্ণময়, তেমনই ঐতিহ্যবাহী। এখানে যেমন আদিবাসী, রাভা-মেচ, ভুটিয়ারা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন লিম্বু, রাজবংশীরা। প্রত্যেকেরই নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। রঙিন এই সংস্কৃতিকে আমরা ডুয়ার্সের পর্যটনের সঙ্গে জুড়তে চাইছি।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের আহ্বায়ক রাজ বসু। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্সে সাধারণত ল্যান্ডস্কেপ ট্যুরিজম হয়ে থাকে। এর সঙ্গে যদি স্থানীয় মানুষের বিশেষ করে জনজাতিদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, খাবারদাবার যুক্ত করা না যায়, তাহলে ট্যুরিজম সফল হবে না। সেকারণে আমরা পর্যটন মানচিত্রে বক্সা পাহাড়ের ১৪টি গ্রামে থাকা ডুকপাদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি মেলে ধরার চেষ্টা করছি। তাঁর দাবি, স্থানীয় মানুষের হাতে তৈরি খাবার, ঘর সাজানোর সামগ্রী, পাহাড়ের বিভিন্ন অঞ্চলের কমলালেবু, হোম স্টে সবটাই পর্যটনের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথতে গত ১১-১৩ ডিসেম্বর আমরা বিহারের পাটনায় অরেঞ্জ ফেস্টিভাল করলাম। খুব ভালো সাড়া মিলেছে। আমাদের সঙ্গে সিকিমও পাটনায় ওই উৎসবে শামিল হয়েছিল। উৎসবের তিনদিনে সাউথ সিকিমে বেড়াতে আসার জন্য প্রচুর স্পট বুকিং হয়েছে।
পাহাড় এবং ডুয়ার্সের অফবিট ডেস্টিনেশনগুলি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন বিহারের ট্যুর অপারেটর সংস্থার কর্তাদের পাশাপাশি পর্যটকরা। পাহাড় ও ডুয়ার্সে শিক্ষামূলক ভ্রমণে আসার ব্যাপারেও উৎসাহ দেখিয়েছে বিহারের একাধিক স্কুল-কলেজ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ