সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: গত দু’বছরে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে চিতাবাঘ বিভিন্ন বয়সের একাধিক মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে চা শ্রমিক মহল্লায়। শুক্রবার রাতে বানারহাটের আংরাভাসা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের কলাবাড়ি চা বাগানের হুলাস শ্রমিক লাইন থেকে সাড়ে তিন বছরের শিশু আয়ূষ কালান্দিকে চিতাবাঘ মুখে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার খুবলে খাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। শনিবার কলাবাড়ি চা বাগানে গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াড তিনটি খাঁচা পাতে। চিতাবাঘের গতিবিধি জানতে চারটি ট্র্যাপ ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। মৃত শিশুর পরিবারকে শনিবার ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বাকি টাকা কয়েকদিনের মধ্যেই দেওয়া হবে বলে বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জার হিমাদ্রী দেবনাথ জানিয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়ূষ দাদুর সঙ্গে বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে বসেছিল। হঠাৎ একটি চিতাবাঘ এসে তাকে মুখে করে তুলে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা খোঁজাখুজির পর রাতেই আয়ূষের খুবলে খাওয়া দেহ উদ্ধার করেন। বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। মৃত শিশুর মা পূনিতা কালান্দি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, টাকা পেয়ে কী হবে! আমার আয়ূষকে কী আর ফিরে পাব!
জানা গিয়েছে, গত বছর ১৯ অক্টোবর নাগরাকাটার খেরকাটায় বাড়ির উঠোনে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুশীলা গোয়ালাকে চিতাবাঘ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। গত বছর বানারহাটের তোতাপাড়া চা বাগানে এক শিশুকে চিতাবাঘ খুবলে খেয়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে কেন? গবাদিপশুর জায়গায় মানুষের রক্তের স্বাদ পেলে চিতাবাঘের আচরণ ও চারিত্রিক বিষয় নিয়ে বনদপ্তরের গবেষণা করে দেখা উচিত বলে পরিবেশপ্রেমী রাজা রাউথ মনে করেন।
কলাবাড়ির মর্মান্তিক ঘটনায় জলপাইগুড়ি বনবিভাগের ডায়না রেঞ্জ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। রেঞ্জ অফিসার অশেষ পাল বলেন, ট্র্যাপ ক্যামেরায় চিতাবাঘটির গতিবিধি জানা সম্ভব হবে। আমরা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছি। নিজস্ব চিত্র।