নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের অংশগ্রহণ ছাড়াই একের পর এক বিল পাশ করিয়ে নেওয়া হবে। আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সংসদীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। মঙ্গলবার সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখা গেল সংসদের দুই কক্ষেই। লোকসভার পর রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল আয়কর বিল, ট্যাক্সেশন বিল এবং স্পোর্টস গভর্ন্যান্স বিল। আলোচনা ছাড়াই। সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের ধ্বংস করছে এই অভিযোগ তুলে ওয়াক আউট করল বিরোধীরা। সেই সময় একতরফাভাবে বিলগুলি পাশ হল। বিরোধীদের বক্তব্য, স্পোর্টস গভর্ন্যান্স বিল পাশ করিয়ে মোদি সরকার দেশের ক্রীড়া প্রশাসন, ক্রীড়া পরিকাঠামো, ক্রীড়া নীতি, ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ, ক্রীড়া সংক্রান্ত তহবিল নির্মাণ ও বণ্টনের সব অধিকার কার্যত কুক্ষিগত করল। কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য জয়রাম রমেশ বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডকে সর্বশক্তিমান করে দেওয়া হবে এভাবে। পাশাপাশি ছোট ও বড় সব ক্রীড়াক্ষেত্রের শেষ কথা বলবে কেন্দ্র। এই বিলকে পাশ করানোর আগে সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর একটি আবেদন রাখা হয়েছিল। শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দিগ্বিজয় সিং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, এই বিল পাশ করানোর জন্য এত তাড়াহুড়োর কারণ নেই। ধীরে সুস্থে আরও আলোচনা করে সংসদীয় কমিটির মতামত জেনেই পাশ করানো যেতে পারে। সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। লোকসভা ও রাজ্যসভায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেটি পাশ করানো হয়েছে। স্পোর্টস গভর্ন্যান্স বিলে বলা হয়েছে, দেশে একটি ন্যাশনাল স্পোর্টস বোর্ড তৈরি হবে। এই বোর্ড জাতীয় স্তরের ক্রীড়া কমিটিদের স্বীকৃতি দেবে। একমাত্র এই স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানগুলি পাবে সরকারি আর্থিক অনুদান। জয়রাম রমেশের বক্তব্য, এর ফলে মোদি সরকার যেমন ইচ্ছা করবে নিজেদের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বোর্ড গঠন করবে। সেইসব কমিটি ও প্রতিষ্ঠানকেই স্বীকৃতি ও তহবিল দেবে যারা বোর্ডের অঙ্গুলিহেলনে চলবে। যে কোনও সময় যে কোনও ক্রীড়া কমিটিকে ভেঙে দিতে পারে বোর্ড। স্বীকৃতিও বাতিল হতে পারে। প্রত্যেকটি জাতীয় ক্রীড়া কমিটি তৈরি হবে ১৫ জন সদস্যকে নিয়ে। যেখানে অবশ্যই থাকবেন বিখ্যাত ক্রীড়াবিদরাও। বিরোধীদের বক্তব্য, পক্ষপাত, স্বজনপোষণের নতুন দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে ক্রীড়াক্ষেত্রে। বিজেপি এতকাল বলে এসেছে যে, তারা সরকারি ব্যবস্থার বাইরে কোনও পরিচালন কমিটির বিরোধী। এখন সেটাই করা হচ্ছে। বিরোধীদের বক্তব্য, আগামী দিনে আরও বহু প্রতিষ্ঠান, বিভাগ, দপ্তরের মতোই সঙ্ঘ পরিচালনা করবে ক্রীড়াক্ষেত্রকে।



