Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রেমিকার বাড়িতে বসে খুনের ছক, হারুনদের পালাতে সাহায্য, হাওড়া কাণ্ডে গ্রেপ্তার ৩

উত্তর হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার মহম্মদ শফিককে গুলি করে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে বড়ো সাফল্য পেল পুলিশ

প্রেমিকার বাড়িতে বসে খুনের ছক, হারুনদের পালাতে সাহায্য, হাওড়া কাণ্ডে গ্রেপ্তার ৩
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: উত্তর হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার মহম্মদ শফিককে গুলি করে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে বড়ো সাফল্য পেল পুলিশ। দুই মূল অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করা এবং গোটা খুনের পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে বুধবার গভীর রাতে কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। ধৃতদের নাম মহম্মদ বিলাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন। যদিও দুই মূল অভিযুক্ত হারুন খান এবং রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত এখনও অধরা। বৃহস্পতিবার ধৃতদের হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক গৈরিক রায় তাদের আটদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শফিককে খুনের ছক কষা হয়েছিল ঘটনার প্রায় ন’দিন আগে। ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গোলাবাড়ি থানা এলাকায় হারুনের বান্ধবীর বাড়িতে বসেই খুনের নীল নকশা চূড়ান্ত হয়। সেখানেই বিলাল, ওয়াকিল ও দিলদার সব রকম সহায়তার আশ্বাস দেয় হারুনকে। তদন্তে উঠে এসেছে, মহম্মদ ওয়াকিল কোনো এক সময় পিলখানা সেকেন্ড লেনে থাকত এবং সেখানেই হারুনের সঙ্গে তার পরিচয়। মধ্য কলকাতার কলুটোলা স্ট্রিটে ওয়াকিলের ব্যাগের কারখানা রয়েছে। সেই কারখানায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল দিলদারের। সেই সূত্রে দিলদারের সঙ্গেও হারুনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেই কারখানায় আবার কাজ করত বিলাল। বছরখানেক আগে ওয়াকিল, দিলদার ও বিলাল একসঙ্গে আজমির শরিফে যায়। সেখানে হারুনও গিয়েছিল। সেই সময় থেকেই চারজনের সম্পর্ক আরও নিবিড় হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, অপরাধ জগতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ ছিল চারজনেরই। বাইরে থেকে কোনও দুষ্কৃতী আশ্রয় নিতে এলে হারুন সহযোগিতা করত, একইভাবে প্রয়োজনে ধৃত তিনজনও হারুনকে সাহায্য করত। শফিককে খুনের ক্ষেত্রেও সেই পারস্পরিক বোঝাপড়া কাজে লেগেছে। ঘটনার আগের রাতে ওই তিনজন হারুনের বাড়িতে যায়। পরিকল্পনা করেই ভোররাতে শফিককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হারুন ও রোহিত। সেই সময় পিলখানার গলির বাইরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিল বিলাল, ওয়াকিল ও দিলদার। গুলি চালানোর পর পিস্তল দেখিয়ে একটি বাইক থামিয়ে হারুন ও রোহিতকে তুলে দেয় তারা। এরপর মালিপাঁচঘড়ায় একটি হোটেলের সামনে বাইক ছেড়ে ট্যাক্সি নিয়ে তারা আহিরীটোলায় পৌঁছায়। সেখানকার সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাদের গতিবিধি। পরে জোড়াসাঁকোর এম এম বর্মন স্ট্রিটে বিলালের বাড়িতে অল্প সময়ের জন্য আশ্রয় নিয়ে দিলদারের বাড়িতে যায় তারা। সেখান থেকে আলাদা আলাদা পথে চম্পট দেয় হারুন ও রোহিত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক বলেন, ‘ধৃত তিনজন খুনের পরিকল্পনার সক্রিয় অংশীদার। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল অভিযুক্তদের নাগাল পাওয়া সম্ভব। তাই তাদের পুলিশি হেপাজতে নেওয়া হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ