নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: অভিনব পন্থায় প্রতারণা। রানাঘাট থানার আইসির গাড়ির চালক পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠল। ঘটনার তদন্তে নেমে রবিবার পুলিস তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে দু’জন ধানতলা থানার হিজুলি এবং একজন মদনমোহনপল্লির বাসিন্দা। সাধারণত ভ্যান চালানো অথবা দিনমজুর হিসেবেই তারা কাজ করত। সম্প্রতি থানার আইসির চালক পরিচয় দিয়ে তারা প্রতারণা করে টাকা উপার্জনের চেষ্টা করে। সোমবার ধৃতদের রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিস তাদের টিআই প্যারেডের আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ জুলাই। দুপুর ২টো নাগাদ ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার ব্যবসায়ী বিপুল মণ্ডলকে ফোন করে। সে নিজেকে রানাঘাট থানার আইসি তন্ময় ভট্টাচার্যের গাড়ির চালক বলে পরিচয় দেয়। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে মূল অভিযুক্তের আগে কিঞ্চিৎ যোগাযোগ থাকলেও তেমন ভালো পরিচিতি ছিল না। ব্যবসায়ীকে সে জানায়, একটি কেসে রানাঘাট থানার পুলিস ৮২ বস্তা সর্ষে এবং ৩৪ বস্তা তিল বাজেয়াপ্ত করেছে। সেগুলি থানারই গুদামে রয়েছে। মাত্র এক লক্ষ টাকায় সেগুলি বিক্রি করে দিতে চায় রানাঘাট থানা। অল্প দামে অনেকটা সামগ্রী পেয়ে যাওয়ার লোভ এবং পর্যাপ্ত নথিপত্র পাওয়ার আশ্বাসে ওই ব্যবসায়ী প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দেন। তিনি ওই তিল এবং সর্ষে কিনতে রাজি হন। পরদিন দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে মূল অভিযুক্ত প্রামাণিক মোড় সংলগ্ন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিসের সামনে গাইঘাটার ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করে। অভিযোগ, সেখানে ওই ব্যবসায়ীকে একটি ব্যাগে করে আনা কিছু পরিমাণ তিল এবং সর্ষে ‘স্যাম্পেল’ হিসেবে দেখায় অভিযুক্ত। বাকি মাল কোথায়? প্রশ্নের উত্তরে সে গাইঘাটার ওই ব্যবসায়ীকে সটান থানায় চলে যেতে বলে। তাঁকে জানানো হয়, থানার সামনে গাড়িতে বস্তা লোড হচ্ছে। থানা থেকেই সমস্ত কাগজপত্রও বানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ প্রায় ৮০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয় তিন অভিযুক্ত।
থানায় পৌঁছে মাল বোঝাই হওয়া সর্ষে এবং তিলের দেখা না পেয়ে বিপুলবাবু বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। তখন গোটা ঘটনাটি জানিয়ে রানাঘাট থানার দ্বারস্থ হন। ঘটনার তদন্তে নেমে ফোনের টাওয়ার লোকেশন ধরে তিন অভিযুক্তের খোঁজ পায় পুলিস। এরপর তদন্তকারী আধিকারিক পিন্টু প্রামাণিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল সড়কপাড়া এবং রথতলা বাজার এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগকারী বিপুল মণ্ডল বলেন, আমাকে থানার আইসির চালক পরিচয় দিয়ে বলেছিল, একটি কেসে প্রচুর মাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাই আমি বিষয়টি অবিশ্বাস করতে পারিনি। পরে থানায় মাল আনতে গিয়ে বুঝতে পারি, প্রতারিত হয়েছি।