সংবাদদাতা, কাঁথি: ইভটিজিংয়ে অভিযুক্ত নবম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিল। ছাত্রটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে অভিযুক্ত ছাত্রীর বাবা সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করল কাঁথি থানা। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল রামনগর থানার আহম্মদপুরের অনুপ মণ্ডল (ছাত্রীর বাবা), মানিকাবসান গ্রামের সুদীপ্ত পন্ডা ও উত্তর শীতলা গ্রামের সুমিত শ্যামল। তাদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হুমকি, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তিনজনকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে পাঁচদিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেন। মহকুমা পুলিস আধিকারিক দিবাকর দাস বলেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
জানা গিয়েছে, গত ২৪ জুলাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ছাত্রীটির বাবা কাঁথির পিছাবনীর সুরধানি গ্রামের বাসিন্দা ওই ছাত্রকে পিছাবনী বাজারে আটকায়। স্কুল ইউনিফর্ম পরে পিছাবনী বাজারে এক বন্ধুর কাছে বই আনতে গিয়েছিল আত্মঘাতী ছাত্রটি। সেখানে ছাত্রীর বাবা সহ কয়েকজন মিলে ছাত্রের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। ধমক-চমক ও হুমকি দেয়। অপমানিত হয়ে ছাত্রটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পরের দিনই বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে। সুইসাইড নোটে লিখে দিয়ে যায়, সে মেয়েটিকে চেনে না। ইভটিজিং করেনি। ইভটিজিং করেছে অন্য ছাত্ররা। তাকে বিনা কারণে অপবাদ দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে। এই অপবাদ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ওই ছাত্রের এক বন্ধু জানিয়েছে, তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তো করা হয়েছেই, জোরপূর্বক বলিয়ে নেওয়া হয় যে, সে ছাত্রীটিকে ইভটিজিং করেছে। সেটা মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়। এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রের বাবা ২৯ জুলাই থানায় ছাত্রীর বাবা সহ কয়েকজনের নামে অভিযোগ দায়ের করে পুলিসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানান। মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। অভিযুক্ত আরও একজন পলাতক। পুলিস তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। ওই ছাত্র পিছাবনী বাণীনিকেতন হাইস্কুলে পড়ত। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিস প্রামাণিক বলেন, ওই ছাত্রের আচার আচরণ খুবই ভালো ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। -নিজস্ব চিত্র