নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মোবাইল ফোন। পরিচয়পত্র রয়েছে পুলিসের জিম্মায়। নথিপত্র ও মোবাইল ফোন ঘেঁটে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশি যোগ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধ, তাঁরা বাংলাভাষী। তাই বিজেপি শাসিত ওড়িশার পুলিসের সন্দেহের নজরে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। বিয়ে বাড়ির লজেই ‘বন্দিদশা’ কাটছে তাঁদের। বহু বাঙালি শ্রমিককে এভাবে অবৈধভাবে আটকে রেখে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ ব্লকের পানিঘাটা পঞ্চায়েতের ২১জন, হাটগাছা পঞ্চায়েতের পাঁচজন এবং পলাশী-১ পঞ্চায়েতের একজন মিলিয়ে মোট ২৭জন পরিযায়ী শ্রমিককে ওড়িশায় আটকে রাখার বিষয়টি সামনে আসতেই জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিস-প্রশাসনের এই অমানবিক আচরণ নিয়ে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বুধবার ভিডিও বার্তায় এনিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের কাছে পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। ওড়িশায় বিজেপি ক্ষমতায় এক বছর আসতেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমাদের শ্রমিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করলে চুপ থাকব না। আদালতে পিটিশন ফাইল করব।
বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অল ইন্ডিয়া স্পিকার কনফারেন্সে যোগ দিতে আগামী সোমবার ভোপাল যাচ্ছি। সেখানে ওড়িশা বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হওয়া অত্যাচারের বিষয়টি তুলব। ওড়িশা সরকারের কাছে অনুরোধ করব, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে। বাংলাভাষী মানুষের সঙ্গে যেন বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা হয়। বাংলাতেও বহু ওড়িশাবাসী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন।
ওড়িশার ঝাড়সুগুদায় ফেরির কাজ করতে গিয়েছিলেন কালীগঞ্জের বাসিন্দা আসাদুল হক ও তাঁর ভাই। গত ১৭জুন তিনি সেখানে কাজে যান। এক ঘণ্টার মধ্যে পরিচয়পত্র যাচাই করে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে সোমবার গভীর রাতে তাঁদের তুলে নিয়ে যায় পুলিস। একটি বিয়ে বাড়ির ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া। তারপর শুরু হয় দফায় দফায় জেরা করে। ফোনে আসাদুল সাহেব বলেন, সমস্ত পরিচয়পত্র নিয়ে নিচ্ছে পুলিস। মোবাইল ফোন চেক করে দেখছে যে পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ থেকে কোনও ফোন আমাদের কাছে এসেছে কি না! ওরা আমাদের বাংলাদেশি সন্দেহ করছে।
আসাদুল সাহেবের মতো কালীগঞ্জ ব্লকের ২৭জন পরিযায়ী শ্রমিক সেখানে আটকে আছেন। তাঁরা ওড়িশার ঝাড়সুগুদা, বাদমাল, ওরিয়েন্ট, বিজয়নগর ও বাজাজনগর করিয়ান থানা এলাকায় থাকতেন। পানিঘাটার পঞ্চায়েত প্রধান সেন্টু মুন্সি বলেন, গত সোমবার ঝাড়সুগুদা জেলায় আমাদের এখানকার যারা কাজ করছিল তাঁদের তুলে এনে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দেয়। পরিবারের লোকজন পঞ্চায়েতে এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা দল ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। কালীগঞ্জ ব্লক তৃণমূলের সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। মুখ্যমন্ত্রী ও আমাদের সাংসদ বিষয়টি দেখছেন। পুলিস-প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে আমারা তাঁদের ফিরিয়ে আনব।
পরিযায়ী শ্রমিকরা জানান, নদীয়া ছাড়াও মুর্শিদাবাদ, হুগলি, উত্তর চব্বিশ পরগনা সহ অন্যান্য জেলা মিলিয়ে প্রায় ৯৬০জনকে অবৈধভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, আমরা ওড়িশার ওই জেলার পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র