Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অতিবৃষ্টির জেরে বাঁকুড়ায় ২৬০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, দেড় কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

গত তিন মাসে অতিবৃষ্টির জেরে বাঁকুড়ায় ২৬০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

অতিবৃষ্টির জেরে বাঁকুড়ায় ২৬০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, দেড় কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গত তিন মাসে অতিবৃষ্টির জেরে বাঁকুড়ায় ২৬০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষে নিম্নচাপের বৃষ্টিতে মাত্র দু’দিনে জেলায় ৫০১টি মাটির বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। তারমধ্যে বহু বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বাকিগুলির আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের দেড় কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা ১৬৩১ জন বাড়ি মালিক পেয়েছেন। বাকিরাও শীঘ্রই ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন। জঙ্গলমহলের এই জেলায় শেষ কবে এত অল্প সময়ে বিপুল বাড়ির ক্ষতি হয়েছে, তা প্রশাসনের আধিকারিক বা স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করতে পারছেন না। 

Advertisement

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার বর্ধমানের সরকারি সভা থেকে বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মালিকদের দ্রুত সাহায্য করার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দেন। ক্ষতিপূরণ মেটানোর ক্ষেত্রে অর্থের কোনও অভাব হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন। সরকারি সভায় দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা এদিন দুপুরে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের অনুষ্ঠানে সরাসরি শোনানো হয়। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে বাঁকুড়ার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকরা অনেকটা‌ই ভরসা পেয়েছেন। বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, ভেঙে পড়া বাড়ির মালিকদের ত্রিপল সহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী প্রশাসনের তরফে দেওয়া হয়েছে। আমরা গত তিন মাসে ক্ষতিপূরণ বাবদ দেড় কোটি টাকা দিয়েছি। বাকি ক্ষতিগ্রস্তরাও দ্রুত টাকা পেয়ে যাবেন।
জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বাঁকুড়ায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। জুন মাস থেকে জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়। তারপর থেকে গত প্রায় তিন মাস ধরে কার্যত টানা বৃষ্টি হচ্ছে। দু’-একদিন আকাশ পরিষ্কার হলেও তা বেশিদিন থাকছে না। ফের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়ে বৃষ্টি নামছে। পরপর নিম্নচাপের জেরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। নাগাড়ে বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন ব্লকে থাকা মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামের পাশাপাশি বাঁকুড়া শহরের বস্তি এলাকাগুলিতেও বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী পুর এলাকার চিত্রটাও মোটের উপর একইরকম। গত তিনমাস ধরেই মাটির বাড়ি ভেঙে পড়ছিল। তবে গত সপ্তাহে অল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়ি ভেঙেছে। নিম্নচাপের জেরে বাঁকুড়া জেলায় মাত্র দু’দিনে ৫০১টি মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারমধ্যে ২১৭টি বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। বাকিগুলির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে জেলার আটটি রাস্তা ও কজওয়ের উপর দিয়ে জল বয়ে যায়। টানা দু’দিন সেগুলি জলের তলায় ছিল। তারফলে রাস্তাগুলির ক্ষতি হয়। সেগুলি মেরামতের জন্য রাজ্যে প্রস্তাব পাঠানো হবে। টাকা এলেই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। তবে আর মাসখানেকর মধ্যে পুজো শুরু হয়ে যাবে। তার আগে জেলার বেহাল রাস্তাঘাট মেরামত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ