Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাতজনের সিটে পুলকারে ২৬ জন পড়ুয়া, দুবরাজপুরে অভিযানে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের

পুলকারে বসার জায়গা রয়েছে সাতজনের। অথচ, গাড়িতে চাপানো হয়েছে ২৬ জন শিশুকে! খুদে পড়ুয়াদের এভাবে যাতায়াত এক দিনের নয়, রোজের।

সাতজনের সিটে পুলকারে ২৬ জন পড়ুয়া, দুবরাজপুরে অভিযানে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পুলকারে বসার জায়গা রয়েছে সাতজনের। অথচ, গাড়িতে চাপানো হয়েছে ২৬ জন শিশুকে! খুদে পড়ুয়াদের এভাবে যাতায়াত এক দিনের নয়, রোজের। উলুবেড়িয়ার ভয়াবহ পুলকার দুর্ঘটনার তিন খুদে পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার দুবরাজপুরে একেবারে সরেজমিনে নেমে নজরদারিও শুরু করেন আধিকারিকরা। তাতেই সামনে আসে খুদেদের পুলকারে যাতায়াতের নিদারুণ চিত্র।

Advertisement

শুক্রবার দুবরাজপুরের ট্রাফিক থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সন্তু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলকার ও স্কুলভ্যানগুলির উপরে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়। একাধিক গাড়িকে আটক করে কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়। সত্যানন্দ শিশুভারতী স্কুলে ছুটির পর একটি পুলকার থামাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিশের। আধিকারিক চালককে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি গাড়িতে কতজনকে চাপিয়েছেন? জবাবে চালক বলেন ২৬ জন। আধিকারিক প্রশ্ন করেন, কতজনকে চাপানোর নিয়ম রয়েছে? যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যায় তাহলে দায় কে নেবে? আপনি কি নেবেন? কিছুটা থতমত খেয়ে যান চালক। আমতাআমতা করে বলেন, আমি একা নই, এভাবেই সবাই নিয়ে আসে। ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল নূপুর চক্রবর্তী বলেন, পড়ুয়াদের যাতায়াতের ভার আমাদের নয়। অভিভাবকরাই তাদের ওইভাবে পাঠায়। যদিও প্রিন্সিপাল স্বীকার করেন, এই ঘটনার দায় সত্যিই আমরা এড়াতে পারি না। ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করে শীঘ্রই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের কাছে বাচ্চাদের নিরাপত্তা সবার আগে। 
পুলিশের এই ধরপাকড় শুরু হতেই চমকে দেওয়ার মতো তথ্য বেরিয়ে আসছে। দেখা যাচ্ছে, কারও ফিটনেস নেই, কারও বিমার মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছে, কোনও গাড়ির আবার রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে গিয়েছে। তবে অধিকাংশ গাড়িতে অতিরিক্ত ছাত্রছাত্রী তোলার ব্যাপারে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সিউড়ির এক পড়ুয়ার অভিভাবক শৈলেন ঘোষ বলেন, পয়সা বাঁচাতে গিয়েই বাচ্চাদের ওইভাবে পাঠায়। কিন্তু, এর পরিণতিকে কী ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা সত্যিই ভেবে দেখি না। এটা আমাদেরই ভুল। এবার থেকে আর ভুল করব না। সম্প্রীতি বন্দ্যোপাধ্যায় নামে আরএক খুদের অভিভাবক জানাচ্ছেন, দৈনন্দিন ব্যস্ততায় আমরা শুধু বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ বলে মনে করি। কিন্তু, যে পুলকারে বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাচ্ছি, তা আদো ফিট কি না, তা খতিয়ে দেখা হয় না। এবার থেকে দেখব। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, পুলকারের কাগজপত্র ঠিক আছে কি না কিংবা অতিরিক্ত পড়ুয়া চাপানো হচ্ছে কি না, সেব্যাপারে স্কুলগুলিকে শীঘ্রই সতর্ক করা হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ