সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত! বিশেষত স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। এমন প্রেক্ষাপটে বিগত বামফ্রন্ট জমানার সমস্যা মাত্র দেড় বছরে সমাধান করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাতেই উত্তরবঙ্গের সমতলভাগে অনলাইন জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের (জিপিএফ) আওতায় এসেছে প্রায় আড়াই হাজার স্কুল। প্রশাসন সূত্রে খবর, নভেম্বর মাসেই ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষের জিপিএফের সুদ পেয়েছেন উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। চলতি ডিসেম্বর মাসে তাঁরা ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের জিপিএফের সুদ পাবেন। এনিয়ে শিক্ষকরা রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। তাঁদের প্রত্যাশা, এবার জিপিএফ নিয়ে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
অর্থদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশে শিক্ষাদপ্তরের সহযোগিতায় দেড় বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের সমতলভাগের সমস্ত স্কুলে অনলাইন জিপিএফ চালু করা হয়েছে। যার সুবিধা ভোগ করছেন কয়েক হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। তাঁরা অনলাইনে জিপিএফে নমিনির নাম, ঋণের আবেদন করতে পারছেন। এরপর নির্দিষ্ট অর্থবর্ষের জিপিএফের সুদ, সেই বছরই পাবেন শিক্ষক শিক্ষাকর্মীরা। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বা মৃত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের ফাইনাল পেমেন্ট পেতেও কোনও সমস্যা হবে না।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীনের জিপিএফ অনলাইন করার দাবি ছিল বহুদিনের। ২০২৪ সালে এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার অর্থদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এজন্য শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলাকে পাইলট হিসেবে বাছা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষাদপ্তরের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্রকল্প হাতে নেয় অর্থদপ্তর। মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যায় অর্থদপ্তরের একটি শাখা রয়েছে। তারা উত্তরবঙ্গে প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। শিলিগুড়ির ১১০, জলপাইগুড়ির ৩৪৯, কোচবিহারের ৫৩৫, দক্ষিণ দিনাজপুরের ৩৪২, উত্তর দিনাজপুরে ৩৮১, আলিপুরদুয়ারে ২৪৯ এবং মালদহে ৫৭৭টি স্কুল অনলাইন জিপিএফের আওতায় এসেছে।
উত্তরকন্যার এক অফিসার জানান, দেড় বছর ধরে স্কুল ও বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসগুলির সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করে, বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখে গত অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ও মালদহ জেলার কাজ সবশেষে হয়েছে। এরপরই নভেম্বর মাসে ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষের জিপিএফের সুদের টাকা পেয়েছেন শিক্ষকরা। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুসারে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা গচ্ছিত অর্থের উপর ৭.১৫ শতাংশ হারে সুদ পেয়েছেন। এটা ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ অনলাইন প্রকল্পের কাজ চলছিল। তবে ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের সুদের টাকা চলতি ডিসেম্বর মাসে প্রদান করা হবে। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের সুদ প্রদান করা হবে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। এরপর অর্থবর্ষের সুদ সেই বছরই উপভোক্তারা পাবেন।
এনিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সহ সভাপতি সুপ্রকাশ রায় বলেন, আগে শিক্ষকদের জিপিএফ সুরক্ষিত ছিল না। প্রয়োজনের সময়ও ঋণ মিলত না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জিপিএফ অনলাইন হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা যেমন বেড়েছে, তেমনই শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের সুবিধা হয়েছে।
এটাকে কার্যত স্বাগত জানিয়েছে সিপিএমের শিক্ষক সংগঠন। এবিটিএ’র দার্জিলিং জেলা সম্পাদক বিদ্যুৎ রাজগুরু বলেন, বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকেই শিক্ষকদের জিপিএফ অ্যাকাউন্ট চালুর দাবি ছিল। এতদিনে তা বাস্তবায়িত হয়েছে। বিষয়টিকে আরও সরলীকরণ করার দাবি সরকারের কাছে জানানো হবে।