Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালদহে পড়ুয়াশূন্য ২৫টি স্কুল বন্ধের মুখে, শোরগোল

পড়ুয়াশূন্য ২৫টি স্কুল বন্ধ হতে চলেছে মালদহে। ওই স্কুলগুলি সম্পর্কে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরের তরফে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে রাজ্যে।

মালদহে পড়ুয়াশূন্য ২৫টি স্কুল বন্ধের মুখে, শোরগোল
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: পড়ুয়াশূন্য ২৫টি স্কুল বন্ধ হতে চলেছে মালদহে। ওই স্কুলগুলি সম্পর্কে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরের তরফে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে রাজ্যে। প্রশাসন সূত্রে খবর, পড়ুয়াশূন্য হয়ে পড়া একাধিক প্রাইমারি ও জুনিয়র হাইস্কুল রয়েছে খোদ ইংলিশবাজার শহরে। শুক্রবার মালদহে এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনকে এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বেসরকারি স্কুলের প্রতি ঝোঁক বৃদ্ধির কারণেই সরকারি স্কুলে পড়ুয়া কমছে। এর জন্য আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি দায়ী। যদিও এই অবস্থা থেকে সরকারি স্কুলগুলিকে ঘুরে দাঁড় করাতে বর্তমান রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেব্যাপারে এদিন কিছু বলেননি শিক্ষামন্ত্রী। তবে রাজ্যে কোনো অনুমোদনহীন, পরিকাঠামোহীন মাদ্রাসা চলবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

মালদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলায় যে ২৫টি স্কুল সম্পর্কে রাজ্যে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে, সেগুলিতে খাতায়-কলমে পড়ুয়ার সংখ্যা তিনের নীচে নেমে গিয়েছে। বাস্তবে একজনও পড়ুয়া স্কুলে আসছে না। তবে এই ২৫টির বাইরে বেশকিছু স্কুল রয়েছে জেলায়, যেখানে খাতায়-কলমে হাতেগোনা কয়েকজন পড়ুয়া থাকলেও তারা ক্লাস করে না। শুধুমাত্র সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সহায়তা নেওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে স্কুলে আসে তারা। ওইসব স্কুলগুলিকে অবশ্য ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। 
অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ বলেন, কিছু স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমে গিয়েছে। কীভাবে ওই স্কুলগুলিকে ঘুরে দাঁড় করানো যায়, তার চেষ্টা করছি আমরা। পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করতে বেশকিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিন অবশ্য পড়ুয়ার সংখ্যা তলানিতে নেমে যাওয়া স্কুলগুলি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর বোঝা যাবে, স্কুলগুলি চালানো যাবে নাকি অন্য কিছু ভাবতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এই বার্তার পর অবশ্য পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। শুরু হয়েছে শোরগোল।
ইংলিশবাজার শহরের বিনয় সরকার রোডে অবস্থিত সেন্ট্রাল স্কুল ফর গার্লসে (জুনিয়র হাই) খাতায়-কলমে সাতজন পড়ুয়া। কোনোদিন এক-দুই জন আসে, কোনোদিন আবার একজন পড়ুয়ারও দেখা মেলে না। তিনতলা ভবন বিশিষ্ট ওই জুনিয়র হাইস্কুলে শিক্ষিকা চারজন। ফলে কার্যত স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় সই করা ছাড়া তাঁদের আর কোনো কাজ থাকছে না। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, অভিভাবকদের অনেক অনুরোধ করে সাতজন ছাত্রীকে ধরে রেখেছি। আশেপাশে একাধিক গার্লস হাইস্কুল রয়েছে। সবাই সেসব স্কুলে চলে যাচ্ছে। যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে হত, তখন অন্য স্কুলে সুযোগ না পাওয়া মেয়েরা আমাদের স্কুলে পড়তে আসত। এমন একটা সময় ছিল, যখন স্কুলে মেয়েদের বসতে দেওয়ার জায়গা হত না। আর এখন স্কুল টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, এবারের বন্যায় মানিকচক, রতুয়া ও কালিয়াচক-৩ ব্লকে বহু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি স্কুল তলিয়ে গিয়েছে গঙ্গাগর্ভে। ফলে জল নামলেও কীভাবে বন্যা কবলিত এলাকায় পড়াশোনা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসকের (শিক্ষা) অবশ্য বক্তব্য, যে সমস্ত এলাকায় স্কুল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে পুনর্গঠনের কাজ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আশপাশের স্কুলের সঙ্গে ট্যাগ করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালু রাখার কাজ চালিয়ে যাব। যদি তা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেই কোনো অস্থায়ী পরিকাঠামোয় ক্লাস হবে। এবারের বন্যায় মালদহে ১১৯ টি স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হয় বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ