সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: গত শনিবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ডুয়ার্সের তোর্সা, শিসামারা, রায়ডাক, সংকোশ, মুজনাই, হাউড়ি ও বাংরি নদীর বাঁধ ও স্পারের ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে নদীবাঁধ ও স্পারের মোট ২৫টি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচদপ্তর শুক্রবার পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসেব করে উঠতে পারেনি। সেচদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত যা হিসেব করা হয়েছে তাতে এখনও ক্ষয়ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও স্পার মেরামতে ২০ কোটি টাকার মতো খরচ হবে।
বাঁধ ভেঙে নদীর জলে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও ফসল ভেসে গিয়েছে। বহু মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি শুক্রবারও দর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলি করেছে। তবে স্বস্তির কথা, গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরদুয়ার জেলার কোথাও নতুন করে আর বৃষ্টি হয়নি। দুর্যোগে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমারে শিসামারার ৫৭০ মিটার বাঁধ ভেসে গিয়েছে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের দিকে উজানে শিসামারার বাঁধের এই অংশ ক্ষতি হয়েছে। তবে ভাটিতে শিসামারার ৯০০ মিটার বোল্ডার বাঁধ অক্ষতই আছে। শিসামারার ওই বোল্ডার বাঁধ যদি ভেঙে যেত তাহলে কী পরিস্থিতি যে হতো তা ভেবেই শিউড়ে উঠছেন দুর্গতরা।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি তোর্সা নদীবাঁধের ক্ষতি হয়েছে। কালচিনির হাসিমারায় সুভাষিণী চা বাগানের পাশে তোর্সা নদীবাঁধের ১০০০ মিটার অংশ জলের তোড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। তোর্সার জল ঢুকে সুভাষিণী বাগানের ১০০ হেক্টর চা গাছ ডলোমাইট মিশ্রিত পলিতে চাপা পড়েছে। ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের ধাক্কায় কুমারগ্রামের রায়ডাক-২ ও সংকোশ নদীর বাঁধ ও স্পারের ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগে মাদারিহাটে মুজনাই, হাউরি, বাংরি ও তিতি নদীর অসংখ্য স্পারের ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও রেনকাটও হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতি হয়েছে জেলার বিভিন্ন নদীবাঁধের ডিফ্লেক্টরেরও।
দুর্যোগের পরে যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ ও স্পার মেরামতের কাজে ঝাঁপিয়েছে সেচদপ্তর। বাঁশ, দঁড়ি ও বালির বস্তা দিয়ে এই মেরামতের কাজ চলছে। সেচদপ্তরের আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, এই ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও স্পার মেরামত করতে প্রায় ২০ কোটি টাকা লাগবে। তবে এটি প্রাথমিক হিসেব।