রামকুমার আচার্য, বাঁকুড়া: রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে ২৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কেন্দ্রীয় পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে ওই টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় ওই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থে ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির খোলনলচে বদলে ফেলার কাজ হবে। নতুন ভবনের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের জন্য প্যাথলজি সেন্টারও চালু করা হবে। তারফলে রোগীদের আর বাইরে থেকে রক্ত সহ অন্যান্য উপাদান পরীক্ষা করাতে হবে না।
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(স্বাস্থ্য) রোহন লক্ষ্মীকান্ত যোশী বলেন, ব্লকস্তরে থাকা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছে। গ্রামীণ হাসপাতাল, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশাপাশি ‘ব্লক প্রাইমারি হেলথ ইউনিট’(বিপিএইচইউ) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্লকস্তরে সব জায়গায় রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগীদের বাইরে থেকে তা করাতে হয়। বিপিএইচইউতে প্যাথলজি সেন্টার থাকবে। এছাড়াও অনেক জায়গায় উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভাড়া বাড়ি বা অন্য সরকারি ভবনে চলে। অর্থ কমিশনের টাকায় কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন তৈরি হবে।
বাঁকুড়ার বাসিন্দা নবকুমার ঘোষ, কাঞ্চন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এই আমলে বাঁকুড়া সহ জঙ্গলমহলের জেলাগুলির স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি সুপার স্পেশালিটি ও গ্রামীণ হাসপাতালেরস্তরে উন্নীত হয়েছে। তবে এখনও কিছু জায়গায় উন্নত পরিকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। সরকার অর্থ বরাদ্দ করায় আমাদের উপকার হবে। বহু গরিব মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে পরিষেবা পাবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২৩টি জেলার মোট ৫১টি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতালকে বিপিএইচইউ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তারজন্য মোট ৩০ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ইউনিট পিছু খরচ হবে ৫৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। বাঁকুড়ার ছাতনা ও অমরকানন গ্রামীণ হাসপাতাল ওই তালিকায় রয়েছে। ভবন নেই রাজ্যের এমন ১৮টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (পিএইচসি) জন্য সরকার ২৫ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। পিএইচসি পিছু খরচ হবে ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা করে। ওই টাকায় বিষ্ণুপুরের ভড়া ও ইন্দাসের দীঘলগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ হবে। রাজ্যের ভবনহীন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির জন্য ১৭৩ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সাব সেন্টার পিছু খরচ ধরা হয়েছে ৬৪ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা করে। ওই তালিকায় বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য জেলার মোট ১০টি সাব সেন্টার রয়েছে।
রাজ্যের মধ্যে নদীয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪৭টি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভবন তৈরি করা হবে। মালদহ, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, বীরভূমে সবচেয়ে কম মাত্র একটি করে সাব সেন্টারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।