সংবাদদাতা, ডোমকল : গতবছর লাগামছাড়া ডেঙ্গুর দাপটে ইসলামপুরসহ রানিনগর ১ ব্লক কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এবছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ওই ব্লকে ২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের খোঁজ মেলে। আবার একই ব্লকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তর সংখ্যা ৪০ জন। তার মধ্যে ৩৯জনই পরিযায়ী শ্রমিক বলে জানা গিয়েছে। রানিনগর ১ ব্লকের বিএমওএইচ হাসানুল হাসিন বলেন, গত বছর পুজোর সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ লাগামছাড়া ছিল জেলায়। এবার আমরা সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেভাগেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফিভার ক্যাম্প, সচেতনতা অভিযান, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু পরীক্ষা সব চলছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও আমরা আলাদা সতর্কতা অবলম্বন করছি।
প্রসঙ্গত, গতবছর থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই জেলায় জেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নেমেছে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর। বছরের শুরু থেকেই ফিভার ক্যাম্প, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চলছে বাড়ি-বাড়ি নজরদারি। পরিযায়ী শ্রমিকদেরও বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে।
ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই মরশুমে এখনও পর্যন্ত রানিনগর ১ ব্লকে ২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে ডেঙ্গুর সক্রিয় কেস রয়েছে দু’টি। তবে গত বছরের তুলনায় এই সময় আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বেশি হলেও এবার নমুনা পরীক্ষার হারও বেশি। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও, তা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ব্লকের স্বাস্থ্যকর্তারা। ইতিমধ্যেই কোনও এলাকায় আচমকাই একাধিক মানুষের মধ্যে জ্বরের প্রকোপ দেখা দিলেই আশপাশের বাসিন্দাদের নমুনা সংগ্রহ করে তাঁদের রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। দোরে দোরে গিয়ে জ্বরের রোগীদের উপর নজর রাখছেন আশাকর্মীরা।
ব্লকের স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানাচ্ছে, গত জুলাই পর্যন্ত রানিনগর ১ ব্লকে ৪০ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হন। যার মধ্যে ৩৯ জনই ভিনরাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিক। সেই কারণেই রাজ্যে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আলাদা সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কেউ জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরলে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা হচ্ছে। সংগ্রহ করা হচ্ছে ডেঙ্গুর নমুনাও। এছাড়াও পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছেন।