নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: রেললাইনে পুলিশকে পাথর ছুড়ে মারা সহ একাধিক অভিযোগে দুই মহিলা সহ ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতাদের অভিযোগ, কোটশিলা স্টেশনে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর থেকেই জিউদারু সহ সংলগ্ন গ্রামে পুলিশ সন্ত্রাস চালাচ্ছে। দু’বছরের শিশু থেকে শুরু করে মহিলারাও পুলিশের সন্ত্রাস থেকে রক্ষা পায়নি। ২৫ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতা অজিত মাহাত।
শনিবার কুড়মিদের ডাকা রেল অবরোধ আটকাতে তৎপর হয় পুলিশ। ওইদিন বিকেলে কোটশিলা স্টেশন কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে বলে অভিযোগ। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা পাথর বৃষ্টির অভিযোগ ওঠে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। তাতে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হন। জখমদের মধ্যে দু’বছরের শিশুও রয়েছে বলে দাবি আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতাদের। জখম পুলিশকর্মীদের মধ্যে আইপিএস পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই জিউদারু সহ সংলগ্ন এলাকায় ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। দফায় দফায় প্রায় ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের অধিকাংশই জিউদারু গ্রামের বাসিন্দা।
এনিয়ে রবিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন কুড়মি সমাজের নেতা অজিত মাহাত। তিনি বলেন, রেল অবরোধ একদিনের বেশি করার পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু, পুলিশ ওই আন্দোলনকে আটকাতে জেলাজুড়ে সন্ত্রাস চালিয়েছে। জিউদারুতে এদিনও পুলিশের সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে পুলিশের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হবে। ওই সভায় ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার কুড়মি নেতাদেরও আসার আহ্বান জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি-তৃণমূলের এমপি, এমএলএরা পুলিশের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ও আন্দোলনের বিষয়ে কোনও ভূমিকা নেননি। তাছাড়া সাধারণ মানুষ কেন পাথর ছুড়তে বাধ্য হল, তা কেউ বলছে না। পুলিশ যখন গ্রামে গ্রামে টহল দিয়েছে, রুটমার্চ করেছে, সেই সময় তো কেউ মারধর করেনি। পাথর ছোড়েনি। পুলিশ মহিলা ও শিশুদেরও ছাড়েনি। এমনকী আক্রোশে বাইক পর্যন্ত ভেঙেছে। পুলিশের এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ সভা করা হবে।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় কোটশিলায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ ঠিক নয়। বরং সাধারণ মানুষ যাতে সন্ত্রস্ত হয়ে না থাকেন, তারজন্যই রুটমার্চ করা হয়েছিল। শিশু ও মহিলাদের মারধরের কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা যে কেউ পুলিশকে জানাতে পারে। বরং শিশু ও মহিলাদের ঢাল করেই পুলিশকে পাথর ছোড়া হয়েছিল। ১০মিনিটের মধ্যে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গোটা জেলায় কোনও স্টেশন বা রাস্তায় অবরোধ হয়নি। জিউদারুগ্রোমে সন্ত্রাসের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, যারা নির্দোষ তাঁরা নির্ভয়ে ওই গ্রামে থাকতে পারেন। পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু, যারা পুলিশকে আক্রমণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।