সংবাদদাতা, বহরমপুর: জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়ে রয়েছে। তারমধ্যে প্রচুর সবজি চাষের জমি রয়েছে। ফলে সবজি মিলছে না। সেকারণে সবজির দাম এখন আকাশছোঁয়া। আলু ছাড়া ৫০টাকা কেজির নীচে কোন সবজি বাজারে মিলছে না। আর এই পরিস্থিতিতে মিড ডে মিল চালাতে প্রাথমিক স্কুলগুলিকে কার্যত হিমসিম খেতে হচ্ছে। পড়ুয়াদের খাবারের পাতে পর্যাপ্ত সবজি দিতে শিক্ষকদের নিজেদের টাকা খরচ করতে হচ্ছে বলেই দাবি করেছেন অনেকে। বিশেষ করে কমসংখ্যক পড়ুয়ার স্কুলগুলিতে সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রের সমগ্র শিক্ষা মিশনের বরাদ্দ বাড়ানোর জোরাল দাবি উঠেছে। মুর্শিদাবাদের প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকদের দাবি, কেন্দ্র বরাদ্দ না বাড়ালে বেশিদিন পকেট থেকে পয়সা দিয়ে এই প্রকল্প চালানো সম্ভব নয়। একটা সময় কেন্দ্রের এই প্রকল্প মুখ থুপড়ে পড়বে।
দীর্ঘদিন পর মিড ডে মিলের বরাদ্দ ৬ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৭৮ পয়সা করা হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, পড়ুয়া পিছু বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র ৫৯ পয়সা। সেই তূলনায় গত তিনমাসে ডিমের দাম, ডাল, চাল, তেলের দাম হুহু করে বেড়েছে। সবজির দামের ওঠানামা ছেড়েই দিলাম। তারসঙ্গে রয়েছে গ্যাস, মশলাপাতি। ছাত্র-ছাত্রীদের পাতে ডিম, সয়াবিন, সবজি দিতে এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয় তা অতি বাস্তব। কয়া প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৫জন। গড়ে ৬২ জন ছাত্রছাত্রী স্কুলে উপস্থিত থাকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপূর্ব নাথ বলেন, মাথা পিছু ৬টাকা ৭৮ পয়সায় পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব নয়। কম সংখ্যক পড়ুয়ার ক্ষেত্রে একেবারের অসম্ভব। পকেট থেকে টাকা দিয়ে চালাতে হবে। এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের বিবেচনা করা উচিত। অপূর্ববাবুর দাবি, তিন বছর আগে কন্টিজেন্সি খাতে মাত্র দু’হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে বন্ধ।
বৃহস্পতিবার বহরমপুরের বিভিন্ন বাজারে পটল বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বেগুন ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, গাজর ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, লঙ্কা ১৫০ টাকা, আদা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের তেজপাল লোহিয়া জিএসএফপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিন্দ্য সিংহ বলেন, অগ্নিমূল্য সবজির বাজার। বাজারে গিয়ে ব্যাগ ভর্তি করতে নাভিশ্বাস উঠছে। কেন্দ্র সরকার অতি শীঘ্র বরাদ্দ না বাড়ালে আমরা খুবই সঙ্কটজনক অবস্থায় পড়তে চলেছি। কেন্দ্রের সমগ্র শিক্ষা মিশনের কাছে আমাদের দাবি, মিড ডে মিল খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হোক। সবজির দাম ঊর্ধমুখী হওয়ায় মিড ডে মিল কীভাবে চলবে তা নিয়ে শিক্ষকদের মাথায় হাত পড়েছে।