সংবাদদাতা, মালদহ: ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দাখিল করে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল মালদহে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ।
সংবাদদাতা, মালদহ: ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দাখিল করে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল মালদহে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ।
কখনও সরাসরি মালদহ প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দপ্তরে এসে, আবার চিঠি দিয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে। যাঁদের নিয়ে এই অভিযোগ, তাঁদের যোগ্যতা, নিয়োগ ও শংসাপত্র সম্বন্ধীয় সব নথি দাখিল করতে বলা হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদও। সব মিলিয়ে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।
মালদহ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন বাসন্তী বর্মন ‘বর্তমান’কে বলেন, যে শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের যোগ্যতা, নিয়োগ ও শংসাপত্র সহ সব নথি দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহে মোট ৩১টি সার্কেল (চক্র) রয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি চক্রে ভুয়ো শংসাপত্র দাখিল করে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই পাঁচটি সার্কেল হল মানিকচক, মানিকচক-১, রতুয়া (নিউ), কড়িয়ালি এবং মোথাবাড়ি। এই পাঁচটি সার্কেলের মোট ২২ জন শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি’র অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে মালদহের দু’জন প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত বিশদ তথ্য নিতে সরাসরি তাঁর অফিসে আসেন অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের দু’জন আধিকারিক। সম্প্রতি সিআইডি’র তরফে তাঁদের কাছে আরও ২০ জন শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে লিখিতভাবে। রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকেও চিঠি দিয়ে একই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষকদের যোগ্যতা, নিয়োগ ও শংসাপত্র সম্বন্ধীয় যাবতীয় নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। হাতে পেলেই সব নথি রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও তদন্তকারী সংস্থাকে পাঠিয়ে দেব।
মালদহ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) মলয় মণ্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সিআইডি’র অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে পাওয়া চিঠি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের এক পদস্থ আধিকারিকের কথায়, মালদহের একাধিক ব্যক্তি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্তরে ওই শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। মুলত ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের চাকরি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন অভিযোগকারীরা। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে। তদন্তের ভার দেওয়া হয় সিআইডি’কে। এরপরেই ময়দানে নেমেছে তদন্তকারী সংস্থার অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ।
কত সালে ওই নিয়োগ হয়েছিল, তা অবশ্য নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের তরফে। চেয়ারপার্সন বলেন, কবে ওই শিক্ষকরা নিযুক্ত হয়েছিলেন, নথি না দেখে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নামও জানাতে চাননি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা।