Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মহারাষ্ট্রে বিপর্যয়ে মৃত ২১, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লাল সতর্কতা, আটকে গেল মনোরেলও, টানা বৃষ্টিতে স্তব্ধ মুম্বইয়ের জনজীবন

অঝোর বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাণিজ্য নগরী মুম্বই। সময় যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ততই ঘোরালো হয়ে উঠছে।

মহারাষ্ট্রে বিপর্যয়ে মৃত ২১, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লাল সতর্কতা, আটকে গেল মনোরেলও, টানা বৃষ্টিতে স্তব্ধ মুম্বইয়ের জনজীবন
  • ২০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুম্বই: অঝোর বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাণিজ্য নগরী মুম্বই। সময় যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ততই ঘোরালো হয়ে উঠছে। টানা বর্ষণে কার্যত স্তব্ধ মায়ানগরীর জনজীবন। আবহাওয়া দপ্তরের হিসেব বলছে, ৮৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে মুম্বইয়ে। অনেক জায়গাতেই ডুবে গিয়েছে রেল লাইন। ফলে ট্রেন পরিষেবাও স্বাভাবিক হয়নি। বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনেরও হাল একই। বন্ধ স্কুল, কলেজ, সরকারি-আধা সরকারি অফিস, এমনকী আদালতও। মঙ্গলবার দুপুরের পর স্থগিত হয়ে যায় বম্বে হাইকোর্টের কাজকর্ম। এরইমধ্যে এদিন সন্ধ্যায় মাইসোর কলোনির কাছে দুটি স্টেশনের মাঝে মনোরেল আটকে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার জেরেই এই বিপত্তি। দু’ঘণ্টার চেষ্টায় মনোরেলের কামরার কাচ ভেঙে প্রায় চারশো যাত্রীকে উদ্ধার করে দমকল। সোমবারের পর এদিনও ব্যাহত হয় বিমান পরিষেবা। 

Advertisement

তবে শুধু মুম্বই নয়, ৫ দিনের প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অংশ। জলবন্দি বহু গ্রাম। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। জখম আরও প্রায় ১০ জন। বানভাসি এলাকা থেকে কয়েকশো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। এরইমধ্যে শঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস। সেখানে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুম্বইয়ে অতিভারী বৃষ্টি চলবে। এজন্য জারি রয়েছে লাল সর্তকতা। কোঙ্কন, সেন্ট্রাল মহারাষ্ট্র, পশ্চিমঘাটেও ভারী বৃষ্টি চলবে। মারাঠাওয়াড়া ও বিদর্ভে কমলা সর্তকতা জারি করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা মুম্বই, থানে, রায়গড়, রত্নাগিরি, সিন্ধুগড় জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। 
ভারী বৃষ্টিতে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনাও। নানদেদ জেলার বন্যা কবলিত মুখেদ এলাকায় জলের তোড়ে ভেসে যায় একটি গাড়ি ও একটি অটোরিক্সা। তিন জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিন মহিলা সহ চার জনের খোঁজ মেলেনি। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছেন কোপডে গ্রামের এক যুবক। লাগাতার বৃষ্টির জেরে একাধিক বাঁধ থেকে জল ছাড়া হয়েছে।  ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি জলের তলায়। বানভাসি কুরলা থেকে ৩৫০ জনের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরানো হয়েছে। নানদেদ থেকে সরানো হয়েছে ২৯০ জনকে। ভামড়াগড় তালুকে এখনও বিচ্ছিন্ন ৫০টি গ্রাম। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ